কুয়াকাটায় থেরাপির সময় নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটায় থেরাপির সময় নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
কলাপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন ম্যাক্স হাসপাতাল (ছবি: সংগৃহীত)।

জাহিদ শিকদার, বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন বয়সী এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেখানে কর্মরত এক সেবিকার বিরুদ্ধে।

গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’-এর প্রসূতি ওয়ার্ডের ফটোথেরাপি কক্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নার্সদের চরম অবহেলায় নবজাতকের পা ভেঙে যাওয়ার পরও বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখার অপচেষ্টা চালায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি শিশুটির ভাঙা পায়ের এক্স-রে করানো হলেও সেই রিপোর্ট স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সরেজমিনে জানা যায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হন গৃহবধূ জান্নাতি আক্তার কনা বেগম। ওই দিন রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ থাকায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবারটি। কিন্তু বাড়ি ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালের শয্যায় কান্নায় ভেঙে পড়ে নবজাতকের মা কনা বেগম বলেন, “বিয়ের দীর্ঘ ছয় বছর অনেক সাধনা ও চিকিৎসার পর আমি প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছি। কিন্তু নার্স খাদিজা আমার বাচ্চাটিকে চোখের হলুদ ভাব দূর করতে এবং তাপ দিতে (ফটোথেরাপিতে) নিয়ে গিয়ে এমন নির্মমভাবে পা ভেঙে ফেলেছে। আমার একদম সুস্থ-সবল ফুটফুটে ছেলেটির পা ভেঙে আজ দুই টুকরো হয়ে গেল!”

চিকিৎসায় এমন দায়িত্বহীনতা ও গুরুতর অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, “আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমি দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দিয়েই বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনব এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

মন্তব্য করুন