ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
শুভ সমদ্দার, স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাসের (৪৫) মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব ও পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়: ১. তরিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪): বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। ২. আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২): পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে। তিনি পেশাদার মাদক কারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত গোপাল চন্দ্র দাস বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাজু ও সম্রাট একটি মোটরসাইকেলে করে গোপালকে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের নদীর পাড়ে একটি নির্জন ইটভাটার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেলে পুলিশ অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দেহটি উদ্ধার করার পর নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে ইটভাটায় ঢুকতে এবং কিছুক্ষণ পর দুইজনকে বের হতে দেখা যায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৮ ও পুলিশ শনিবার দুপুরে বরিশাল থেকে সম্রাটকে এবং রাতে স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত গোপাল এবং গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পর মাথা ও ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ