পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ণ
পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: পাবনার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে সুজানগর উপজেলার চরতারাপুর ও সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়ার কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।

নিহত মঞ্জু শেখ উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জু শেখ সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়ার কলাবাগান চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ঘাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছিল। এর জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ওই এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে বুক ও শরীরে গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুরো চরাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।

নিহতের চাচা ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন, “চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী জোরপূর্বক পদ্মা নদী থেকে বালু তুলতে গেলে আমার ভাতিজাসহ স্থানীয়রা তাতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা ভারী আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে মঞ্জুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মঞ্জু আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।”

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন ও ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন