বেলকুচিতে ৩৫ বছর ধরে সরকারি স্কুলের জায়গা বেদখল, দখলমুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর
আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ১২২ নম্বর চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ক্রয়কৃত সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করে বসতঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে থাকলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। শুধু তাই নয়, উল্টো অভিযুক্ত দখলদারদের ওই প্রধান শিক্ষক নানাভাবে সহযোগিতা করছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের এই জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, অত্র এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় বিদ্যালয়ের নামে জমিদাতা মিজানুর রহমান, হারিবুর রহমান এবং ইসমাইল হোসেন (ফিরোজ) গংদের কাছ থেকে আইনানুগভাবে ৩৩ শতাংশ জমি চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে কেনা বা রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৩৫ বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও জমি দাতারা অদ্যবধি বিদ্যালয়ের সেই জায়গা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে অতীতে বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার জমি দাতাদের সাথে যোগাযোগ করে স্কুলের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার তাগাদা দিলেও তারা পাত্তা দেননি।
সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর এলাকার সচেতন মহলের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
উক্ত অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ও আইনসম্মত জমির পূর্ব পাশে বেশ কিছু অংশ জোরপূর্বক অবৈধভাবে জবরদখল করে সেখানে স্থায়ী বাড়ির প্রাচীর ও বিভিন্ন পাকা-আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের মনোরম ও স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে মদদ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ মানুষ একাধিকবার তাঁকে মৌখিকভাবে অবহিত করলেও তিনি সম্পূর্ণ উদাসীন থেকেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
লিখিত অভিযোগে প্রধানত মিজানুর রহমান, হারিবুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন (ফিরোজ) নামের তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়টির জমি জবরদখল করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, “চরঘুঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা যে বেদখল হয়ে আছে, তা প্রধান শিক্ষক এত দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের জানাননি। পরবর্তীতে যখন ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হলো, কেবল তখনই আমরা জানতে পারলাম যে স্কুলের জমি এক পক্ষ দখল করে রেখেছে। আমরা খুব দ্রুত সরজমিনে গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করব এবং জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা বেদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”