ফসলরক্ষা বাঁধ প্রকল্পে স্বচ্ছতার অঙ্গীকার পানিসম্পদ মন্ত্রীর

ফসলরক্ষা বাঁধ প্রকল্পে স্বচ্ছতার অঙ্গীকার পানিসম্পদ মন্ত্রীর

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় ফসলরক্ষা বাঁধের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় চলমান বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (দুপুরে) তিনি উপজেলার বিভিন্ন ফসলরক্ষা বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, “হাওরাঞ্চলে ফসল উৎপাদন বাড়াতে ফসলরক্ষা বাঁধের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিবছর এসব ডুবন্ত বাঁধ সময়মতো মেরামত ও শক্তিশালী করা হলে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই হাওরাঞ্চলকে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই এলাকার খোঁজখবর রাখছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার—দায়িত্ব নিয়েই আমরা তা বাস্তবায়ন করছি। প্রতি বছর যেন বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সঠিকভাবে, সময়মতো এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। অতীতে বাঁধ নির্মাণে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, ভবিষ্যতে সেগুলো আর যাতে না ঘটে—সে লক্ষ্যে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।”

এ সময় মন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কাজের মান, নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা এবং বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩), কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, এবং মামুন হাওলাদার, নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের তত্ত্বাবধানে এসব কাজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ক্ষতি কমে আসবে এবং জাতীয় খাদ্য উৎপাদন আরও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন