সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার সময় সাবেক বনদস্যু আটক

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার সময় সাবেক বনদস্যু আটক

মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): সুন্দরবনে বিষ দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরতে যাওয়ায় এক জেলেকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হায়াতখালী ফরেস্ট অফিসের আওতায় মোছেরখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করে বনরক্ষীরা। এ সময় তার কাছ থেকে বিষ ও নিষিদ্ধ জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক জেলে সুন্দরবনের একসময়ের দুর্ধর্ষ ডাকাত দল ‘আনারুল বাহিনী’র প্রধান ছিলেন। আনারুল ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেন। ডাকাত মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি আনারুল ইসলাম (৫০) কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের এমান আলীর ছেলে।

কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) নাসির উদ্দীন বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিষ দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আটক জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার পুরো প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নীরব গণহত্যার শামিল; এতে মাছের সঙ্গে অসংখ্য জলজ প্রাণী ও অণুজীব ধ্বংস হয়ে খাদ্যচক্র ভেঙে পড়ছে। বিষাক্ত ছোট মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে জলজ পাখি ও বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কীটনাশকমিশ্রিত পানি নদী–খাল থেকে সাগরে ছড়িয়ে বৃহত্তর জলজ সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং মানুষের খাদ্য ও পানির নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করছে।

তিনি আরও বলেন, এ অবৈধ পদ্ধতি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ অভিযান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর কর্মশালা করতে পারলে এ অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন