লাইসেন্স ছাড়াই রাজশাহীতে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের গুরুতর অভিযোগ

লাইসেন্স ছাড়াই রাজশাহীতে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের গুরুতর অভিযোগ

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী: এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজশাহীতে সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বোসপাড়া এলাকার 'মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া এসিড আমদানি, পরিবহন বা সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ উঠেছে, আনোয়ার কেমিক্যাল কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে তা দিয়ে ‘ড্যাম ফিক্স’সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করছে। এমনকি লাইসেন্সবিহীন অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের কাছেও অবৈধভাবে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 এই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ‘ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাওসার আলী। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সাল থেকে তিনি সরকারি নিয়ম মেনে লাইসেন্স (৯২/২০১৬) নবায়ন করে ব্যবসা চালালেও আনোয়ার কেমিক্যালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো নিয়ম না মেনেই ব্যবসা করছে। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি তাঁর পার্টনার প্রতিষ্ঠান 'কনফিডেন্স কেমিক্যাল'-এর সঙ্গে যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং কোনো অবৈধ কাজ করছেন না। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে অন্য নামে ব্যবসা করার বৈধতা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এসিডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। তাই অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সাথে রাজশাহীর সব কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন