‘জামায়াত থাকতে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন নেই’: রাশেদ খান
অনলাইন ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী থাকতে ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান। জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন শিবিরের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই বিষয়টি দিন দিন আরও বেশি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক অত্যন্ত ঝাঁঝালো পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে যার সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধঘোষিত) দ্বারা তিনি যখন রাজপথে নির্মমভাবে আক্রান্ত ও রক্তাক্ত হয়েছিলেন, সেই সব পুরোনো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যুবনেতা রাশেদ খান বলেন, “নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ দ্বারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আমার আক্রান্ত হওয়ার ছবিগুলো এখন ফেসবুকে নতুন করে প্রকাশ করছে জামায়াত-শিবিরের লোকজন। এরা আসলে কত বড় জঘন্য ও নিচু মানসিকতার! এরা নিজেরা স্বৈরাচারের আমলে সারাজীবন গর্তে বা গুপ্ত অবস্থায় থেকেছে, আর আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে স্বৈরাচারের মাইর খেয়েছি। এখন সেটিকে ওরা অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে প্রচার করছে যে, আমি নাকি কোনো অপকর্ম বা ক্রাইম করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছি! এর চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে?”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের সস্তা ও বানোয়াট মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে একের পর এক ফোনকল ও বার্তা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রাশেদ খান।
এই বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি আরও বলেন, “ওদের (জামায়াত-শিবির) ছড়ানো এই নোংরা গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে দেশের অনেক মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে অনবরত কল ও মেসেজ করে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মূলত সবার এই ব্যাকুলতার প্রেক্ষিতেই ফেসবুকে পোস্ট করে পুরো বিষয়টি সবার সামনে একদম পরিষ্কার ও খোলাসা করলাম।”
জামায়াতের এমন আচরণে উষ্মা প্রকাশ করে বিএনপি এই নেতা পোস্টের শেষাংশে বলেন, “আওয়ামী লীগ যে কায়দায় মিথ্যাচার আর প্রোপাগান্ডা চালাতো, এখন জামায়াতও ঠিক একই পথ বেছে নিয়েছে। তাই জামায়াত থাকতে যে আওয়ামী লীগের আর আলাদা করে কোনো প্রয়োজন নেই, সেটির প্রমাণ ডে বাই ডে (দিনের পর দিন) আরো স্পষ্ট হচ্ছে।”
|