রাশিয়ায় চাকরির চুক্তিতে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে ৪ বাংলাদেশি নিহত
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক গুরুত্বর্পূণ তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য ও খতিয়ান তুলে ধরেন।
সংসদকে বিস্তারিত জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, “চলতি বছরের গত ২৪ এপ্রিল দেশের তিনটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি (যাদের লাইসেন্স নম্বর যথাক্রমে: আরএল নম্বর ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) সরকারি প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বৈধ ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র নিয়ে এই ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে উন্নত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় পাঠায়।”
তিনি আরও বলেন, “তবে কর্মীরা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানে ওই যুবকদের সাধারণ চাকুরির পরিবর্তে জোরপূর্বক যুদ্ধের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং একটি বিশেষ ক্যাম্প থেকে সরাসরি ইউক্রেনের বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে (ফ্রন্টলাইন) পাঠানোর অপচেষ্টা ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে– এমন সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল তথ্য পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সরকার দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুন রাশিয়ার মস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে এই বিপদগ্রস্ত ও অবরুদ্ধ বাংলাদেশি কর্মীদের দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় সব আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিতে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়।”
আরিফুল হক চৌধুরী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “মস্কো দূতাবাস থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, ওই ৩০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ইতিমধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকা বাকি কর্মীদের দেশে সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী এবং এই লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দালালের খপ্পরে পড়ে উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরির আশ্বাসে এই ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরে মে ও জুন মাসের দিকে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, রাশয়ায় নির্দিষ্ট চাকুরিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের আটকে রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে বলির পাঁঠা বানানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথ তদন্ত শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বিশেষভাবে স্থান পায় এবং তারা বাংলাদেশি যুবকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আন্তর্জাতিক চক্র নিয়ে অনুসন্ধানী ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই চক্রের সাথে জড়িত দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
|