মার্কিন হামলায় ইরানের বুশেহরে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ
মার্কিন হামলায় ইরানের বুশেহরে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ ইরানের স্পর্শকাতর সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর নতুন দফার জোরালো হামলার পর দেশটির বুশেহর প্রদেশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের বিধ্বংসী আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত (ওপেন-সোর্স) কৃত্রিম উপগ্রহ ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে গালফ নিউজ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সব ভিডিওর সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইরানি সামরিক বা সরকারি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার কথা বলে গত মঙ্গলবার রাতে ইরানজুড়ে ৮০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবির পরপরই বুশেহরে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ওই বিশেষ স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর ও ছবি বিশ্ব গণমাধ্যমে সামনে আসে।

এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ নৌযান চলাচলের ওপর ইরানের ক্রমাগত হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল করে দেওয়াই ছিল তাদের এই সমন্বিত সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো বুশেহর প্রদেশ ও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কোন কোন সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা আঘাত হেনেছে বা এতে কতজন সেনা হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারাও গভীর রাতে পুরো প্রদেশজুড়ে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন।

সামরিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের স্থাপনায় যেভাবে আগুন লাগার ছবি ও ভিডিও এসেছে, তাতে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে যে—ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মূল মজুদাগার, আধুনিক ড্রোন (ইউএভি) উৎপাদন অবকাঠামো অথবা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

তবে ওয়াশিংটন বা তেহরান—প্রভাবশালী এই দুই পক্ষের কোনোটিই এখনো পর্যন্ত এই ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

মন্তব্য করুন