সরকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছে: শামা ওবায়েদ

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ণ
সরকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছে: শামা ওবায়েদ

অনলাইন ডেস্ক:বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও জটিলতার মাঝে বাংলাদেশ সর্বদা একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সরকারের এই অবস্থানকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো ব্লকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে একটি অত্যন্ত চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করে আসছে, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয় রাজনীতি, জনপ্রশাসন ও সরকারের নীতি’ এবং ‘দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বশান্তির বেদীতে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে তাঁদের অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আমাদের শান্তিরক্ষীদের মহান আত্মত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ বিশ্বশান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের এই সুউচ্চ পেশাদারিত্বের কারণেই আজ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।”

বর্তমান সরকারের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “জাতিসংঘের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাঁদের নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় ও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন বৈরী ও চ্যালেঞ্জিং মিশনে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বিশ্বব্যাপী নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আগামী দিনগুলোতে এই ধারাকে আরও বেগবান করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাবে।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন