সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নীরবতা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ণ
সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নীরবতা

জাতীয় ডেস্ক: পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী চিকিৎসা শেষে ২৬ জুলাই ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

তবে দেশে ফিরলেও বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি স্পিকার। তিনি জানান, চিকিৎসাসেবা সম্পন্ন হওয়ায় এবং ব্যক্তিগত কাজ থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই ফিরেছেন এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলাম। ফলে দেশে কে পদত্যাগ করছেন বা কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। আপনারা সাংবাদিকরা যেমন শুনছেন, আমিও তেমনটাই শুনেছি। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি, তিনি কী করবেন না করবেন—সেটি তাঁর বিষয়।"

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, "যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তবে সংবিধান অনুযায়ী তিনি স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পরবর্তীতে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটিই মূলত সংসদীয় রীতি।"

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর দেশে ফেরার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিযুক্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনে রয়েছেন।

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে আরও দাবি করেছে যে, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।