ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য বর্তমান সরকার ‘রিকভারি, রস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা সংক্ষেপে ‘থ্রি আর’ (3R) কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন।

 ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে দেশ বর্তমানে আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতেই সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।

দেশের বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্ট-আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বায়ো-টেকনোলজির সুষম ব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।

 শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক। ভবিষ্যতে এসব কার্ডকে সমন্বিত করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

 দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়ায় আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং এসএমই খাতে নগদ অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে। এ সময় তিনি বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির সঙ্গে জাতিসংঘের এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার গভীর মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গঠনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এলডিসি (LDC) উত্তরণ টেকসই করতে উন্নত দেশগুলোর ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। 

বক্তব্যের শেষাংশে বিশ্ব মানবতার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসী হবে এবং প্রতিটি শিশু নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাবে। সবার আগে বাংলাদেশ......সবার জন্য বাংলাদেশ।”

মন্তব্য করুন