প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা
রোববার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। এরপর ২২ জুন তিনি চীনের দালিয়ানে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর সম্মেলনে যোগ দেবেন। ২৪ থেকে ২৬ জুন তিনি বেইজিংয়ে থাকবেন, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, এই সফরে চীনের সঙ্গে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ‘কার্টেন রেইজার’ অনুষ্ঠান শেষে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সারাহ কুক এবং নিকোলাস উইকসও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ ও দূতদের আগমনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “রাষ্ট্রদূতরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে এসেছেন, তৃতীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নয়।” তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং নিজের জাতীয় স্বার্থেই বিদেশ সফর করবে। কোন দেশে যেতে হবে, তা কেউ নির্ধারণ করে দেবে না।
চীনের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, তিস্তা নিয়ে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা বা ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’-এর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর তাই আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা
|