স্বস্তিদায়ক হলেও পিংক বাস এড়িয়ে চলছেন নারীরা, নেপথ্যে পাঁচটি বড় সংকট
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ‘পিংক বাস’ উদ্বোধনের এক মাস পার হলেও আশানুরূপ যাত্রী পাচ্ছে না। ৭৫টি আসনবিশিষ্ট এসব দ্বিতল বাসে অধিকাংশ ট্রিপেই মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন যাত্রী দেখা যাচ্ছে। যাত্রীস্বল্পতার কারণে বিআরটিসিকে রাজধানীর ১০টি রুটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বাসচালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পিংক বাসে সাড়া না পাওয়ার পেছনে অন্তত পাঁচটি বড় কারণ চিহ্নিত করা গেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সেবা চালুর আগে পর্যাপ্ত মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও চাহিদা যাচাই না করার খেসারত দিতে হচ্ছে এই সেবাটিতে।
পিংক বাসে যাত্রীসংকটের ৫টি প্রধান কারণ: ১. স্বল্প ট্রিপ ও অনিশ্চিত শিডিউল:প্রতিটি রুটে দিনে মাত্র এক বা দুটি ট্রিপ পরিচালিত হয়। নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকা এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ঝক্কির কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অন্যান্য সাধারণ গণপরিবহনে উঠে পড়েন। ২. সীমিত রুট ও গন্তব্যের অমিল: রাজধানীর কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে প্রতিদিন একাধিক পথ বা সংযোগ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। পিংক বাসের রুট সীমিত হওয়ায় যাত্রীদের মূল গন্তব্যের সঙ্গে তা মিলছে না।৩. বাসের সংখ্যা অপ্রতুল: বর্তমানে রাজধানীতে মাত্র ১৩টি পিংক বাস চলাচল করছে। রুটে পর্যাপ্ত বাস না থাকায় বাসের জন্য অপেক্ষার সময় অনেক বেশি, যা নিয়মিত যাত্রীদের আস্থা তৈরি করতে পারছে না।৪. নারী চালকের সংকট ও দক্ষতার অভাব: পিংক বাস সম্পূর্ণ নারী চালক ও হেল্পার দ্বারা পরিচালিত হলেও দক্ষ নারী চালকের সংখ্যা এখনো অপ্রতুল। বড় বা দ্বিতল বাস চালানোর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি হতে সময় লাগায় ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।৫. প্রচারের ঘাটতি ও প্রচারণার সীমাবদ্ধতা: পিংক বাসের সঠিক রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে বেশিরভাগ নারী যাত্রী এখনও বিস্তারিত জানেন না। এছাড়া অনেক নারী পরিবার বা পুরুষ সহযোগীদের সঙ্গে যাতায়াত করার কারণে শুধু নারীদের জন্য নির্ধারিত বাস ব্যবহারে অনিচ্ছা দেখান।
বিআরটিসির কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নারী চালক নিয়োগ ও বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে এ সেবার মান ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।