সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার হাজি

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার হাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক:মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় সমাবেশ পবিত্র হজ ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার মেগা কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সরকারি ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি এজেন্সির যৌথ গেমপ্ল্যান অনুযায়ী, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত রোববার পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৮৬৮ জন বাংলাদেশি হাজি আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসেবে ওমরাহ ও হজের কন্ডিশন পূর্ণ করে দেশে ফিরে এসেছেন।

আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ধর্মীয় উৎসব ও আচার, হজ্জ ব্যবস্থাপনা ও প্রবাসী কল্যাণ খতিয়ান’ এবং ‘ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, পিলগ্রিমেজ ট্র্যাকিং ও ফরেন রেসিডেন্স মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ফিরতি হজ ফ্লাইটের সমীকরণ ও হাজিদের বর্তমান পরিসংখ্যান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

সরকারি হজ অফিসের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, আজ সোমবার দুপুরে হজ অফিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হাজিদের পরিবহনে নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ১৩৪টি ফিরতি বা ইনবাউন্ড ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। বিমান চলাচলের সুনির্দিষ্ট মেথড অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একাই ৬৩টি ফ্লাইট, সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ ডেটাবেজের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা মেথডলজি অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি বিভিন্ন লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছেন ৫২ হাজার ৫৫৫ জন। উল্লেখ্য, এবারের হজের মূল কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী বা আউটবাউন্ড হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত আইনি ট্র্যাকে চালু থাকবে।

প্রকাশিত হজ্জ বুলেটিনের অফিশিয়াল খতিয়ানে হাজিদের মৃত্যুর একটি দুঃখজনক বিবরণও উঠে এসেছে। এবার মেষ হজের সফরে গিয়ে পবিত্র মক্কা শরিফে ৩৭ জন, মদিনা শরিফে ১৪ জন এবং জেদ্দায় ১ জনসহ মোট ৫২ জন বাংলাদেশি হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এবার মিনা বা মুজদালিফার কড়া ভিড়ের ভেতর কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া, সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের ৬৪,১৪৯ জন হাজিকে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে। তীব্র গরমের কারণে নানা ধরণের শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি আউটডোর চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৬ জন হাজি এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ কন্ডিশনে চিকিৎসাধীন আছেন। পাশাপাশি, মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত বিশেষ আইটি হেল্প ডেস্কের (IT Help Desk) মাধ্যমে ডিজিটাল মেথডে হারিয়ে যাওয়া হাজি ও মালামাল খুঁজে পেতে মোট ২৭,৮৯০ জন হাজিকে তাৎক্ষণিক আইনি ও টেকনিক্যাল সেবা দেওয়া হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন