স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকারের যেকোনো স্তরের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সামগ্রিক আইন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে।
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান গুজবের অবসান ঘটিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমাদের স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি কার্যকর আইন রয়েছে—তার কোথাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। সুতরাং যারা আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের অনুরোধ করব আপনারা কোনো গুজবে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো সনদের প্রয়োজন নেই।”
তিনি পদের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য বা নারী সদস্য পদে দাঁড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। একইভাবে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়নি।”
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের স্থানীয় সরকার আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংশ্লিষ্ট পরিষদের কিংবা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক সার্বজনীন পদে আসীন থাকলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১১ নম্বর বিধির ১৭(খ) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করেছে যে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সময়ে একাধিক কোনো চাকরিতে বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে বহাল থাকতে পারবেন না। সেখানে লাভজনক পদ বলতে সরকার কিংবা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত যেকোনো বেতন, ভাতা বা সম্মানিকে বোঝানো হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আচরণবিধি ও প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের মূল সাংবিধানিক এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখন স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা সমন্বয় করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যদি কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা মতামত জানতে চায়, তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত টেনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) হওয়ার ক্ষেত্রেও কিন্তু সংবিধানে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। আমিও যখন এমপি নির্বাচিত হয়েছি, মনোনয়নপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়নি। কারণ এটি আমাদের সংবিধানে নেই। সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য নয়, তা স্থানীয় সরকারে চাপিয়ে দিলে তা মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন মানুষ হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করতে পারেননি, কিন্তু তিনি সমাজসেবক ও আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানে প্রজ্ঞাবান এবং স্বশিক্ষিত হতে পারেন। মানুষের সেবা করার ও নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। তাই মানবিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনে যোগ্যতার কোনো কৃত্রিম দেয়াল তৈরি করা হয়নি।”