লঘুচাপের প্রভাবে দেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, দ্রুত বাড়তে পারে নদীর পানি

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ণ
লঘুচাপের প্রভাবে দেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, দ্রুত বাড়তে পারে নদীর পানি
লঘুচাপের প্রভাবে উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বাড়ছে বৃষ্টিপাত, নদীগুলোতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির আশঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের সক্রিয় প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিশেষ বুলেটিনে নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধির বিষয়ে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর পরবর্তী এক দিনেও দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তঘেঁষা উজান অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বাড়লেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়ি নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও আগামী দুই দিনে বৃষ্টির কারণে পানির সমতল দ্রুত লাফিয়ে বাড়তে পারে।

বুলেটিনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বেশ কয়েকটি অংশে সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে জলবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী দুই দিন ক্রমান্বয়ে কমতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি আগামী দুই দিন কমার পর পরবর্তী তিন দিন সামান্য বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হবে।

উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও তৃতীয় দিনে গিয়ে পানি বাড়তে পারে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে, যা পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ নদীর পানি সমতল ও বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য জানতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখতে পারেন।

মন্তব্য করুন