ফ্রান্সে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪.৯১ শতাংশ

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪.৯১ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক: ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাজার ফ্রান্সে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে টান পড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক পোশাক খাত নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে সার্বিক রপ্তানি কিছুটা প্রবৃদ্ধিতে থাকলেও ফ্রান্সে তা ৪.৯১ শতাংশ কমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমে ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। তবে ইইউর সামগ্রিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩.৩৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে স্পেনের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। একই সময়ে স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৩.৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে।

এদিকে ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা 'ইউরোস্ট্যাট'-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউ অঞ্চলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ এবং রপ্তানির মোট পরিমাণ কমেছে ৪.৫৮ শতাংশ। একই সময়ে গড় রপ্তানিমূল্য কেজিপ্রতি ১৪.৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩.৭৬ ইউরোতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ক্রেতারা আগের চেয়ে কম পরিমাণে এবং কম দামে তৈরি পোশাক কিনছেন, যার সরাসরি চাপ পড়ছে দেশের পোশাক কারখানার আয় ও মুনাফার ওপর।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে জানান, “রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর থাকা অবস্থায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নতুন উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সদস্যদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের বহুমুখীকরণে কাজ করছি, যাতে কোনো একটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।”

রপ্তানি আয়ের এই মন্দাভাব সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ শ্রমিকদের আয়ে। ওভারটাইম কমে যাওয়ায় কারখানার সুইং অপারেটরসহ মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে বিকল্প নতুন বাজার অনুসন্ধান, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের দিকে মনোযোগ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

সকালবেলা / নুসরাত