ডিটক্স ওয়াটার আসলে কতটা উপকারী? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে 'ডিটক্স ওয়াটার' একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। অনেকেরই ধারণা, এই পানি পান করলে শরীর থেকে দ্রুত টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং শরীর ভেতর থেকে 'পরিষ্কার' হয়। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ডিটক্স করার এই ধারণার পেছনে কোনো জোরালো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত শরীরের নিজস্ব ডিটক্স সিস্টেম হিসেবে লিভার ও কিডনি সার্বক্ষণিক বর্জ্য অপসারণের কাজ করে থাকে; কোনো বিশেষ পানীয় এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে আলাদা করে ত্বরান্বিত করতে পারে না।
ডিটক্স ওয়াটার মূলত সাধারণ পানির মধ্যে লেবু, শসা, আদা, পুদিনা, স্ট্রবেরি বা আপেলের মতো বিভিন্ন ফল ও ভেষজ উপাদান দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয়। এটি তৈরি করা যেমন সহজ, দেখতেও তেমনি আকর্ষণীয়। একটি জগে পানি নিয়ে পছন্দের ফল বা সবজি কেটে ১ থেকে ১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিলেই তৈরি হয় এই সুগন্ধীযুক্ত পানীয়। যদিও এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ সরায় না, তবুও সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে এর কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। বিশেষ করে যারা সাধারণ পানি পান করতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এটি পানি পানের পরিমাণ বাড়ানোর একটি চমৎকার মাধ্যম।
ডিটক্স ওয়াটার জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ। এতে ক্যালোরি খুব কম থাকে এবং এটি চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে সাময়িকভাবে মেটাবলিজম বাড়ে এবং ক্ষুধা কম লাগে, যা পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে এবং হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে। শরীরে পানির সঠিক মাত্রা বজায় থাকলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো স্নায়বিক সমস্যাগুলো থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
তবে ডিটক্স ওয়াটার নিয়ে কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন—এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা দ্রুত বাড়ায় কিংবা শরীরের পিএইচ (pH) ভারসাম্য পরিবর্তন করে, এমন তথ্যের কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া পানিতে ভিজিয়ে রাখা ফল বা সবজি থেকে খুব সামান্য পরিমাণ পুষ্টিগুণ পানিতে মিশলেও এটি ভিটামিনের বড় কোনো উৎস নয়। সামগ্রিকভাবে, ডিটক্স ওয়াটার সরাসরি অলৌকিক কোনো কাজ না করলেও পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
জান্নাত/সকালবেলা
|