ঘুম ভাঙার পরপরই ফোনে চোখ দিচ্ছেন? এতে কী হয় জানুন
জীবনযাপন ডেস্ক: বর্তমানের অতি-সংযুক্ত বিশ্বে ঘুম থেকে জেগেই স্মার্টফোনের দিকে হাত বাড়ানো অনেকের কাছেই এক অবাধ্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরুতে নোটিফিকেশন চেক করা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করাকে আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ‘নোমোফোবিয়া’ (মোবাইল ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়) হিসেবেও বর্ণনা করে থাকেন।
ক্ষতিকর দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত: স্মার্টফোনের ‘ব্লু-লাইট’ মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। ঘুম ভাঙার পরপরই এই আলোর সংস্পর্শে আসা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-কে বিভ্রান্ত করে, ফলে সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: সকাল শুরু হতেই ইমেল বা খবরের নোটিফিকেশন দেখা শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে হৃদস্পন্দন ত্বরান্বিত হয় এবং দিনের শুরুতেই অস্থিরতা বা মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: সকালে ফোনের পেছনে অতিরিক্ত সময় দিলে ব্যায়াম, ধ্যান বা পুষ্টিকর প্রাতরাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অবহেলিত হয়। এটি পেশাগত বা একাডেমিক ক্ষেত্রে আপনার কর্মদক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে।
সকালের রুটিন অবহেলা: একটি সুস্থ সকালের রুটিন মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু ফোনের নেশায় এই স্বযত্নমূলক কাজগুলো বাদ পড়লে মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করে।
হীনম্মন্যতা ও তুলনা: ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। এই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের ‘নিখুঁত’ জীবন দেখে নিজের অবচেতন মনে তুলনা শুরু হয়, যা আত্মসম্মান কমিয়ে দেয় এবং মেজাজ বিগড়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত কিছুক্ষণ ফোনের পর্দার বদলে নিজের দিকে মনোযোগ দিন এবং একটি গঠনমূলক রুটিন অনুসরণ করার চেষ্টা করুন।
জান্নাত/সকালবেলা
|