হুতিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের বিমান হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় অঞ্চল মোখা ও দুবাব এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বিমানবাহিনী। তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানান, উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরের কাছাকাছি এলাকা এবং মোখা শহরের জাইদ আল-খারজ শপিং মলের আশপাশে অবস্থান নেওয়া হুতিদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান থেকে নিখুঁত হামলা চালানো হয়। এতে হুতিদের বেশ কয়েকটি ভারী অস্ত্রবাহী সামরিক যান ও গোলাবারুদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন হুতি মিলিশিয়া সদস্য নিহত হন।
মুখপাত্র আরও জানান, মোখায় পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশে গড়ে তোলা মিলিশিয়াদের গোপন ঘাঁটিতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রাণ হারান। এ ছাড়া মোখা-দুবাব সংযোগ সড়কে শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে অবস্থিত একটি পশু কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে হুতিদের দখল করা অবস্থানে সফল আক্রমণ পরিচালনা করা হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল-নুজাইলি উল্লেখ করেন, মোখার উত্তর রিং রোডে এক প্রভাবশালী সামরিক নেতার সাবেক সদর দপ্তরে জড়ো হওয়া হুতি মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করেও অভিযান চালানো হয় এবং তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পটি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব ধারাবাহিক বিমান হামলায় ঠিক কতজন হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সেই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ফের নতুন উত্তেজনা ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এক আকস্মিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের এক বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘ ১২ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত রূপ ধারণ করে।
তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে হুতিরা। তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই উত্তেজনার মধ্যেই এখন ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ডে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটিতে ফের পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।