২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমানোর তাগিদ জাতিসংঘের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমানোর তাগিদ জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর জরুরি তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। তা না করা গেলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাসহ মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে মানবজাতি।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনেপির (UNEP) প্রকাশিত এক বিশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অতিরিক্ত উষ্ণতার মাত্রা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব কমানোর সুযোগ এখনও রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্যে এক বিশাল ফাঁক বা ব্যবধান রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে কার্যকর নীতিগুলো এখন যেভাবে চলছে তা অপরিবর্তিত থাকলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।

ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্বনেতাদের বিলম্ব হওয়ার কারণে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে কার্বন ও মিথেন গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে।

পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহাম্মদ আদো ও ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান বিল হেয়ার উল্লেখ করেন, সৌর ও বায়ুশক্তির রূপান্তর ঘটার পরও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো চাহিদা কমাতে পর্যাপ্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে মিথেন গ্যাস কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই কেবল পারে পৃথিবীকে ভবিষ্যতের জলবায়ু বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে।

সকালবেলা / নুসরাত