ইউক্রেনে জুলাই মাসে আশঙ্কাজনক বেসামরিক প্রাণহানি
অনলাইন ডেস্ক: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়ংকর সময় পার হচ্ছে চলতি জুলাই মাসে। গত জুন মাসে ২৯৩ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাটিই ছিল যুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহতম মাস। তবে জুলাই শেষ হওয়ার আগেই সেই রেকর্ড ভেঙে বেসামরিক মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত হলো এটি।
ইউক্রেন সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, চলতি জুলাই মাসজুড়েই রাশিয়ার উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ২ হাজার ১২৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক কঠিন ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতির হওয়ায় ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাজধানী কিয়েভকে একাধিকবার টার্গেট করে এসব হামলা চালানোয় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক মাত্রায় বেড়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, "রাশিয়া কেবল গত এক সপ্তাহেই প্রায় ১ হাজার ৭০০টি ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টিরও বেশি মারমুখী গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৫০টিরও বেশি ধ্বংসাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।"
জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, "রাশিয়া ব্যালিস্টিক সন্ত্রাসকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এটিকে রুখে দিতে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করা জরুরি। মিত্রদের গুদামে পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন প্যাট্রিয়ট) দ্রুত ইউক্রেনের হাতে তুলে দেওয়া দরকার, কারণ এই মুহূর্তে প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর হাজারও মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।"
এদিকে স্থলভাগের তাণ্ডবও অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রশাসন জানায়, গতকাল চের্নিহিভের একটি জমজমাট সুপারমার্কেটে রুশ ড্রোন হামলায় ১০ বছরের এক শিশুসহ দুইজনের করুণ মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীও চুপ করে বসে নেই। মস্কোকে অর্থনৈতিক চাপ ও ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নেওয়া বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়ার ভেতরে থাকা শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং স্যাটেলাইট কেন্দ্রে ক্রমাগত ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়া তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে এবং বছরের শেষ পর্যন্ত ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইউক্রেনের এমন পদক্ষেপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতি স্বীকার না করে উল্টো ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়ে উত্তর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোতে আঘাত হানা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষে পুরো ইউক্রেনজুড়ে এখন রক্তক্ষয়ী চরম সংকট রাজত্ব করছে।
|