মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের স্বপ্ন ফিকে করছে ইরান সংঘাত

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের স্বপ্ন ফিকে করছে ইরান সংঘাত

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা এবং এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় আশঙ্কাজনক পতন দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে, যেখানে মার্কিন কংগ্রেসে নিজেদের অতি সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে জোর চাপে পড়েছেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, অন্তত ৬০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক ইরান পরিস্থিতি ও যুদ্ধ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অসন্তুষ্ট এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতি চারজন রিপাবলিকান সমর্থকের একজন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।

যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অর্থনৈতিক চাপ। যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন যে নির্বাচনের পর তেলের দাম কমে আসবে, কিন্তু কীভাবে বা কত দ্রুত এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো তিনি তুলে ধরতে পারেননি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ প্রস্তাব লেনদেন হয়েছে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিকতম একটি শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর জবাবে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং অর্জিত ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেবে না।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান যে, কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমাগত অভিযোগ করে আসছে ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে, তবে তেহরান সর্বদা সে দাবি অস্বীকার করে আসছে। পরমাণু ইস্যুতে চলমান এই অচলাবস্থা এবং যুদ্ধাবস্থা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।