খেরসন অঞ্চলে ড্রোন দিয়ে 'ফ্রি হান্টিং'-এর নির্দেশ দিল রুশ বাহিনী
অনলাইন ডেস্কঃ ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কৌশলগত এলাকা খেরসনে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর যে কোনো যানবাহনের ওপর মুক্তভাবে হামলা চাানোর জন্য তথাকথিত ‘ফ্রি হান্টিং’ (Free Hunting) বা অবাধ শিকারের নির্দেশ দিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী।
রবিবার (৯ আগস্ট) ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে জানা যায়, কেবল প্রচলিত রিমোট চালিত ফার্স্ট পারসন ভিউ (FPV) ড্রোনই নয়, রুশ বাহিনী এই অভিযানে আধুনিক ফাইবার অপটিক ক্যাবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি তারের সাহায্যে ড্রোন পাইলটের কাছে নিখুঁত সিগন্যাল ও তথ্য পাঠায়। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রচলিত রেডিও ইলেকট্রনিক জ্যামিং (EW) প্রযুক্তি দিয়ে এসব ড্রোন নিষ্ক্রিয় বা জ্যাম করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
লক্ষ্য অর্জনের জন্য খেরসন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রাশিয়া তাদের ড্রোন অপারেটর ও বিশেষ ড্রোন স্কোয়াডের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দূর থেকে সামরিক যানের মতো মনে হওয়া যেকোনো যানবাহন খুঁজে বের করে তাৎক্ষণিক ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ড্রোন অপারেটরদের। তবে এই অভিযানে পার্থক্য না করে সাধারণ বাস, প্রাইভেটকার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিবহনের ওপরও নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে স্থানীয় কাঁচাবাজার, গ্যাস স্টেশন এবং সুপারমার্কেটের মতো যেখানে প্রচুর যানবাহনের ভিড় থাকে— সেসব স্থানকে রাশিয়ার এই নতুন ড্রোন মিশন সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
ড্রোন হামলার মারাত্মক ক্ষতি কাটাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের প্রবেশদ্বারে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী জাল বা ‘অ্যান্টি-ড্রোন মেশ স্ক্রিন’ স্থাপন করা বাড়িয়েছে।
অনবরত নজরদারি এবং বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলের ওপর এই ধরনের নির্বিচার হামলাকে খেরসনের স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একটি পরিকল্পিত ‘হিউম্যান সাফারি’ বা রাজ্যজুড়ে চরম সন্ত্রাসবাদী অভিযান বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
|