জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত ২ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত ২ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন
জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি এলাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: জর্ডানের কৌশলগত মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের জোরালো সামরিক হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের নাম ও পূর্ণ পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অধিবাসী ১৯ বছর বয়সি প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং হাওয়াই অঙ্গরাজ্য থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ২৫ বছর বয়সি ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট জানায়, প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরাসরি ইরানি হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আর মারাত্মক আঘাতজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (১৮ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। শোকাহত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান এই মধ্যপ্রাচ্য মিশন শেষ করে নিজ বাড়িতে ফিরে দীর্ঘদিনের বাগদত্তাকে বিয়ে করার কথা ছিল ২৫ বছর বয়সী তরুণ টাইলারের।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত শনিবার (১৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে পরিচালিত এই বিধ্বংসী হামলার পূর্ণ দায় স্বীকার করে। পরবর্তীতে পেন্টাগনও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় যে, শত্রুপক্ষের সরাসরি আকাশ হামলায় তাদের ওই দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বার্তায় জানিয়েছে, এই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এবং পূর্বে নিখোঁজ সেনাদের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন বাহিনীতে মৃতের মোট সংখ্যা এখন ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

সামরিক তথ্যমতে, গত মার্চ মাসের পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটল। এ নিয়ে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারালেন। সম্প্রতি কিছুদিন এই সংঘাতের মাত্রা কিছুটা শিথিল থাকলেও, গত সপ্তাহ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতি আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ ধারণ করেছে। যেখানে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং তার জবাবে ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা জোরালো আঘাত হানছে।

তবে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতময় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি বলে আন্তর্জাতিক মহল আশা প্রকাশ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখনো ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনা কর্মকর্তাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন