মাতৃত্বের করুণ দৃশ্য: সাগরে মৃত সন্তানকে পিঠে নিয়ে ঘুরছে মা-ডলফিন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
মাতৃত্বের করুণ দৃশ্য: সাগরে মৃত সন্তানকে পিঠে নিয়ে ঘুরছে মা-ডলফিন

অনলাইন ডেস্ক: ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে মাতৃত্বের এক পরম মমতা ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। একটি মা-ডলফিন তার মৃত নবজাতক সন্তানকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে না দিয়ে টানা কয়েক দিন ধরে পিঠে বহন করে আগলে রেখে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রাণিজগতের শোক প্রকাশের এই বিরল ও ট্র্যাজিক আচরণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা ‘জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ’ (Geographe Marine Research) সর্বপ্রথম এই স্পর্শকাতর ভিডিওটি প্রকাশ করে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে নিয়মিত ডলফিন পর্যবেক্ষণ ও ডাটা সংগ্রহের সময় গবেষক দলের নজরে পড়ে এই দৃশ্যটি।

সামুদ্রিক গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোকে কাতর ওই মা বোতলনোজ ডলফিনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্র্যাগল’। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সে একটি নতুন শাবকের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শাবকটি জন্ম থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ভুগছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা যায়। গবেষকরা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তারা আশা করেছিলেন ছানাটি বেঁচে যাবে, কিন্তু তা হয়নি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই নিয়ে ডলফিন ‘ফ্র্যাগল’ পরপর তার চারটি সন্তানকে হারাল।

সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা জানান, ডলফিন অত্যন্ত সংবেদনশীল, বুদ্ধিমান ও সামাজিক মেলামেশায় অভ্যস্ত প্রাণী। সন্তান মারা গেলে অনেক মা-ডলফিনই তা সহজে মেনে নিতে পারে না। তারা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে একাধিক দিন পর্যন্ত মৃত সন্তানকে নিজেদের পিঠে, মাথায় বা মুখে করে পানির উপরিভাগে ভাসিয়ে রাখে যাতে এটি ডুবে না যায়। গবেষকরা প্রাণিজগতের এই মন খারাপ করা আচরণকে মানুষের মতোই শোক প্রকাশের (Grief reaction) একটি স্বাভাবিক প্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

বিজ্ঞানীরা আরও উল্লেখ করেন, প্রকৃতিগতভাবেই নিজের বেঁচে থাকার তাগিদে একসময় খাদ্যের সন্ধানে মা-ডলফিনটিকে মৃত ছানাটির মায়া ত্যাগ করতেই হয়। তবে যতক্ষণ শরীরে শক্তি থাকে, সে সন্তানকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। এ সময় ফ্র্যাগলের সমবেদনা জানাতে ও তাকে সঙ্গ দিতে পাশে আরও কয়েকটি ডলফিনকে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে, যা ডলফিনদের সুদৃঢ় পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকেই নির্দেশ করে।

গবেষকদের মতে, শুধু ডলফিনই নয়—তিমি, হাতি এবং শিম্পাঞ্জি বা গরিলাজাতীয় প্রাইমেটদের মধ্যেও সন্তান বা প্রিয় সঙ্গীর বিয়োগে এমন গভীর শোক প্রকাশের আচরণ লক্ষ্য করা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর লাখ লাখ ব্যবহারকারী এতে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন। অনেকেই লিখেছেন—সন্তানের প্রতি ভালোবাসার যে অকৃত্রিম টান, তা কেবল মানুষের একচ্ছত্র অধিকার নয়, বরং পুরো প্রাণিজগতেই তার এক অনুপম রূপ বিদ্যমান।

মন্তব্য করুন