যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে সাবমেরিন ক্যাবল নিশানার হুমকি ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে সাবমেরিন ক্যাবল নিশানার হুমকি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন বা হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্য তথা পারস্য উপসাগরের সমুদ্রগর্ভস্থ যোগাযোগ ও মূল ইন্টারনেট ক্যাবলে (সাবমেরিন ক্যাবল) বড় ধরনের হামলা চালানোর ছক কষেছে ইরান। আন্তর্জাতিক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কিংবা সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বা দরকষাকষি ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই অতিসংবেদনশীল অবকাঠামো তেহরানের মূল সামরিক নিশানায় পরিণত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন রয়টার্সকে জানান, ক্যাবলে হামলার পর এর দ্রুত মেরামত কাজ ব্যাহত করাই হবে ইরানের মূল কৌশল, যাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়।

ওই কর্মকর্তা ওয়াশিংটনকে 'আগুন নিয়ে খেলা' না করার সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে আর কোনো লাল রেখা (রেড লাইন) অবশিষ্ট থাকবে না... সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবল থেকে শুরু করে গোপন ঘাঁটিসমেত যেকোনো সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত আমাদের নিশানায় আসবে।" সমুদ্রগর্ভস্থ এসব ক্যাবলে ইরানের সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং তেহরান চাইলেই এগুলো নিমেষে অকার্যকর করে দিতে পারে বলে দাবি করা হয়।

এর আগে গত বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানিও জানান, দেশের অবকাঠামোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা প্রধান ৭টি ইন্টারনেট ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে টেলিযোগাযোগ গবেষণা সংস্থা 'টেলিজিওগ্রাফি'-র পরিচালক অ্যালান মল্ডিন জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মাত্র ১ শতাংশেরও কম চলাচল করে। তবে এটি বিচ্ছিন্ন হলে কিংবা লোহিত সাগরের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক ট্রেডিং, আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা চরম মন্দা ও ধীরগতির মুখে পড়বে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মাইক্রোসফট, গুগল, এনভিডিয়া ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপে না যাওয়ার চাপ সৃষ্টি করে, মূলত সেই ভীতি ছড়াতেই তেহরান এই কৌশলী হুমকি দিয়েছে।

সকালবেলা / নুসরাত