পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে না দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন ও কঠোর সামরিক অবস্থান ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই মার্কিন কোনো সামরিক যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে সম্প্রচারিত এক ভাষণে জেনারেল আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর তৎপরতায় মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা ইতোমধ্যে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরসংলগ্ন আঞ্চলিক জলসীমা কিংবা ইরানের সীমানার কাছাকাছি আসার সাহস পাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে'—মর্মে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এই জেনারেল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আবদোল্লাহি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি সত্যিই আমাদের সব পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে থাকে, তবে একই ভিত্তিহীন দাবি বারবার করার প্রয়োজন কেন পড়ছে? সামরিক ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে থাকলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কেন হরমুজ প্রণালির কাছে আসার সাহস দেখাচ্ছে না?" তিনি দাবি করেন, বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করতে ওয়াশিংটন প্রতিনিয়ত পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আরও জানান, সংঘাত দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের নিজেদের তৈরি করা সংঘাতের গহ্বরে আরও গভীরে ঠেলে দেওয়াই বর্তমানে তেহরানের মূল সামরিক কৌশল। সূত্র মতে, আল-জাজিরা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি (তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবহনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। এই সংকটে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির অর্থ হলো সরাসরি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়া। সমুদ্রসীমায় মার্কিন নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালির ওপর অধিকার নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে।
সকালবেলা / নুসরাত