কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত
ভিডিও থেকে সংগৃহীত একটি স্থির চিত্রে তেহরান থেকে উড্ডয়ন করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ বুধবার ভোররাতে এই পাল্টা হামলা চালানো হয় বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ বুধবার ভোরে তাদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ‘শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান ও ক্ষেপণাস্ত্র’ সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনের ডিফেন্স ফোর্সও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো বেশ কয়েকটি ইরানি হামলা আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর চারপাশে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে গত ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, গত মঙ্গলবার মার্কিন একটি ‘আপাচে’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি জবাবটা খুব জোরালো এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল, আর এটি ঠিক তা-ই ছিল।” যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় ইরানের কিশমিশ দ্বীপ এবং সিরিক বন্দর নগরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন