গ্রিসে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী  উদ্ধার, বেশিরভাগই বাংলাদেশি

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
গ্রিসে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী  উদ্ধার, বেশিরভাগই বাংলাদেশি
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উদ্ধারকৃত অভিবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ ইউরোপীয় দেশ গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে চেপে অন্তত ২০২ জন অনিয়মিত অভিবাসী দ্বীপটির উপকূলে পৌঁছেছেন।

উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি নাগরিক। এ ছাড়া বাকিদের মধ্যে সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।

গ্রিসের স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদপত্র দিমোক্রাতিয়া-র প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা এই নৌযানগুলো গ্রিসের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর নতুন করে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা (ফ্রন্টেক্স)-এর একটি আকাশযান প্রথম একটি সন্দেহভাজন নৌযান শনাক্ত করে গ্রিক উপকূলরক্ষীদের সতর্ক করে। এরপর ক্রিটের ইয়েরাপেত্রা এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে স্থানীয় বন্দরে নিয়ে যায় গ্রিক কোস্টগার্ড। সেখানে পৌঁছানোর পর সরকারিভাবে তাঁদের প্রাথমিক নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে একই এলাকার সমুদ্রসীমা থেকে আরও দুটি পৃথক নৌযান থেকে মোট ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। এদের প্রথম নৌযানে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি ও ৩১ জন সুদানের নাগরিক ছিলেন। দ্বিতীয় নৌযানের ৫৬ জন আরোহীর মধ্যে ৪৭ জনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং বাকি ৯ জন মিসরীয় নাগরিক।

পরবর্তীতে নবজাতক ও নারীসহ এসব উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি বিশেষ অস্থায়ী আবাসন ও সেবা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে অভিবাসী পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক পুলিশ। ইয়েরাপেত্রা উপকূল থেকে ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ৫০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি বিকল নৌকা উদ্ধারের ঘটনায় ওই কিশোরকে চালক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ পায়, লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিসের উপকূলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা) হাতিয়ে নিয়েছিল পাচারকারী চক্রটি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়ার উপকূলভাগ ব্যবহার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার গ্রিসে পৌঁছানোর এই বিপজ্জনক রুটটি মানব পাচারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা নিরসনে কাজ করছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন