লোহিত সাগরে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদির জাহাজে ইইউ-এর সতর্কবার্তা

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ
লোহিত সাগরে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদির জাহাজে ইইউ-এর সতর্কবার্তা
লোহিত সাগরের সামরিক রূপরেখা ও বাণিজ্যিক নৌপথের মানচিত্র।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষ নৌ মিশন ‘অ্যাসপিডেস’ (EUNAVFOR Aspides)। বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্য নিরাপদ রাখতে ইইউ মিশনের পক্ষ থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উল্লেখিত তিন দেশের সব ধরনের জাহাজকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নৌপথ এড়িয়ে ভিন্ন পথ ব্যবহারের কড়া সুপারিশ করা হয়েছে।

শিপিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক খাতকে দেওয়া এক নিরাপত্তা পরামর্শ বার্তায় ইইউ নৌবাহিনী মিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সৌদি আরবের মালিকানা বা জাতীয় স্বার্থ যুক্ত জাহাজগুলো বর্তমানে হুথি বাহিনীর সরাসরি হামলার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই চরম সতর্কবার্তার মূল পটভূমিতে রয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘হুথি’ আন্দোলনের এক সাম্প্রতিক বিষফোড়ক ঘোষণা। ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের চলমান অর্থনৈতিক অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলার কঠোর জবাব হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও বাণিজ্যিক ‘নৌ-অবরোধ’ কার্যকর করার ঘোষণা দেয় হুথিরা।

হুথিদের এই ঘোষণার পরপরই পুরো লোহিত সাগর ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ কার্গো ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে গভীর ও নতুন উদ্বেগের সূত্রপাত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি এই লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উৎপাদিত জ্বালানি তেল, গ্যাস, ভারী প্রযুক্তি পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিশাল অংশ আনা-নেওয়া করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে হামলা বা গতিপথে বাধা সৃষ্টি হলে তা এক লহমায় আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বাড়াতে পারে।

এদিকে, হুথিদের এই উসকানিমূলক নৌ-অবরোধ ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব সরকার। রিয়াদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমুদ্র আইন কঠোরভাবে মেনে নিজেদের দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রশাসনিক ও সামরিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ নৌ মিশনের এই আকস্মিক সতর্কবার্তা ও নৌপথ পরিবর্তনের আহ্বানের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখন দূরবর্তী ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বিকল্প সমুদ্রপথ (যেমন আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ) ব্যবহার করার চিন্তা করবে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মারাত্মক অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হলো

মন্তব্য করুন