ইরান কি পারবে সৌদি-হুতি সংঘাত মেটাতে
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার বিধ্বংসী সংঘাত প্রশমনে ইরান নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখতে পারছে না। গত ১১ অক্টোবর তেহরান দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রায় ১১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রিয়াদ কিংবা হুতি—কোনো পক্ষ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রিয়াদ যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রায় ১২ বছর ধরে চলা সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে, ততক্ষণ আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। তবে ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ বাশারের মতে, রিয়াদ কখনোই আকাশ ও জলসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিয়ে হুতিদের পুরস্কৃত করবে না।
বর্তমানে তাইজ ও মারিবের একাধিক ফ্রন্টে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক অ্যালেক্স জালিলির মতে, বন্দর-বিমানবন্দরের পাশাপাশি তেল-গ্যাসের রাজস্বে অংশীদারিত্ব ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির বিষয় জড়িত থাকায় যেকোনো চুক্তি হলেও তা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতেই রূপ নেবে, স্থায়ী সমাধান আনবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুই পক্ষের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিয়াদের জন্য ইরানের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া মানে অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে তেহরানকে চূড়ান্ত অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যা সৌদি স্বার্থের পরিপন্থী। ইতোমধ্যেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে 'মক্কা চুক্তি' স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করছে রিয়াদ। তাছাড়া ওমানের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে নিজস্ব যোগাযোগ চ্যানেল বা চ্যানেল সচল রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সিনা তুসির মতে, ইরান মূলত এমন এক চুক্তি চায় যা হুতিদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব প্রভাব বজায় রাখবে এবং একই সাথে নতুন করে বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ ঠেকাবে। কারণ অতিরিক্ত সংঘাত ২০২৩ সালের চীন-মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তিকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে, যা তেহরান-রিয়াদ সম্পর্ককে আবারও গভীর সংকটে ফেলবে।
সকালবেলা / নুসরাত