মিত্র দেশগুলোর টোল মওকুফের ঘোষণা ইরানের

মিত্র দেশগুলোর টোল মওকুফের ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মিত্র বা ‘বন্ধু’ দেশগুলোকে টোল বা মাশুল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সংবাদ সংস্থাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা কিছু দেশের জন্য বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে এই মুহূর্তে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করে জানান, রুশ জাহাজগুলো এই টোল মওকুফ সুবিধার আওতায় থাকছে।

গত সপ্তাহেই ইরান ঘোষণা করেছিল, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা পুষিয়ে নিতে এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে মাশুল দিতে হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে ইরান ‘কূটনৈতিক ব্লক’ তৈরির চেষ্টা করছে। রাশিয়ার মতো শক্তিধর মিত্রদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে তেহরান মূলত আন্তর্জাতিক মহলে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রথাগত পদ্ধতিতেই আমরা তাদের (ইরান) পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছি। তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের কী প্রয়োজন? পৃথিবীর কারও জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকা উচিত নয়। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকির সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, তেলের দাম নিয়ে চিন্তার চেয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানো বেশি জরুরি। আমি ভেবেছিলাম তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে উঠে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সব জাহাজ এখন মার্কিন তেল নিতে এখানে আসছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না। একটি ‘সেরা চুক্তির’ অপেক্ষায় আছেন। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছালেই কেবল এই নৌপথ খুলে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি চাই না যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার আয় করুক। আমিই এই পথ বন্ধ করে রেখেছি। যদি তারা সমঝোতায় না আসে, তবে আমি সামরিকভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাব।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন