সব সময় চেয়েছি ভিন্ন ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে : সাবিলা নূর
আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত (আপডেট: বিকেল ৩টা ৮ মিনিট) ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড তারকা সাক্ষাৎকার’ বিভাগের এক বিশেষ আয়োজনে সাবিলা নূরের সেই মনখোলা কথোপকথন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
টানা তিন ঈদে বড় পর্দায় নিজের সিনেমা মুক্তি পাওয়া নিয়ে সাবিলা নূর তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং একই সাথে অনেক বড় সৌভাগ্যের। ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আমার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়েছিল। এরপরের দুই ঈদেই পরপর দুটি ভিন্নধর্মী বড় ক্যানভাসের সিনেমাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেলাম। এর মধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে এবং এক ঈদে এই প্রজন্মের প্রতিভাবান অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রতিটি সিনেমাকেই দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আমার চরিত্রগুলো আলাদা করে প্রশংসিত হয়েছে। একজন নতুন চিত্রনায়িকার জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!”
শাকিব খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাঁধা এবং পর্দায় সেই কেমিস্ট্রি ফুটিয়ে তোলা প্রসঙ্গে সাবিলা নূর বলেন, “আমি নিজেকে সত্যিই ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করি। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় প্রজেক্টেই আমি ‘মীরা’ চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি, যেখানে একজন অভিনেত্রীর পারফর্ম করার প্রচুর জায়গা ছিল। সিনেমাটিতে মীরার সঙ্গে শাকিব ভাইয়ের ‘আগুন’ চরিত্রের যে একটা দারুণ প্রেমের কেমিস্ট্রি, সেটা দর্শকেরা দারুণ উপভোগ করছেন। সিনেমাটি যারা ইতিমধ্যে হলে গিয়ে দেখছেন, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সরাসরি ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। ‘রকস্টার’ মূলত একটি আন্তর্জাতিক মানের মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও, এর ভেতরে জড়িয়ে আছে একটি নিটোল ও নিখাদ প্রেমের গল্প। সেই গল্পের মীরা হতে পেরে আমি অত্যন্ত তৃপ্ত।”
মুক্তির পর থেকেই ‘রকস্টার’ দেখতে বিভিন্ন হলের দর্শকদের সারপ্রাইজ দিচ্ছেন সাবিলা। এ প্রসঙ্গে তিনি হাসিমুখে বলেন, “ঈদের দিনটা সম্পূর্ণ নিজের পরিবারকে সময় দিয়েছি। আর এখন সময় দিচ্ছি আমার বড় পরিবার অর্থাৎ প্রিয় দর্শকদের। আমি সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে অন্ধকার হলে বসে সিনেমা দেখতে ভীষণ পছন্দ করি। এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা আমি কখনোই মিস করতে চাই না। হলে গিয়ে দর্শকদের উল্লাস ও লাইভ রেসপন্স দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ ও স্তব্ধ হয়েছি। শাকিব ভাইয়ের এন্ট্রি ও ডায়ালগের পাশাপাশি দর্শকেরা আমার চরিত্রটা এবং ইমোশনাল দৃশ্যগুলো ভীষণভাবে কানেক্ট করতে পারছেন। তারা আমাকে হলের ভেতরে সরাসরি কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে আনন্দের কথা জানিয়েছেন। একজন খাঁটি অভিনয়শিল্পীর জন্য চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ অন্যতম সেরা এক অনুভূতি।”
সিনেমাটিতে শাকিব খানের মেকওভার ও স্টাইল নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সাবিলা বলেন, “শাকিব খান তো বরাবরই প্রতিটি সিনেমাতে নিজেকে ভাঙেন এবং ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে হাজির হন। তবে এই ‘রকস্টার’ সিনেমায় তাঁর শারীরিক ও গেটআপের ট্রান্সফরমেশনটা এক কথায় অবিশ্বাস্য হয়েছে! এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, এর আগে দর্শক উনাকে এই রূপে কখনোই দেখেনি। এটার মূল ক্রেডিট অবশ্য সিনেমার অসাধারণ গল্পের। কারণ সিনেমার জনরাটাই একদম অন্যরকম—মিউজিক্যাল রোমান্টিক থ্রিলার। এখানে আলাদা কিছু সারপ্রাইজিং এলিমেন্ট আছে, যা দর্শককে পুরোটা সময় সিটে বসিয়ে রাখবে।”
নিজের তিন সিনেমার তুলনামূলক মূল্যায়নে সাবিলা নূর স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো একটিকে আলাদা করে এগিয়ে রাখবেন না। তাঁর ভাষায়, “তিনটিই সম্পূর্ণ আলাদা মেজাজ ও ঘরানার সিনেমা। যেমন ‘তাণ্ডব’ ছিল পুরোপুরি কমার্শিয়াল ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা, সেখানে ‘লিচুর বাগানে’র মতো কালারফুল গান ছিল, থ্রিল ছিল। আবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছিল একদমই ভিন্ন আর্ট ও বাস্তবধর্মী টাইপ। সেটার সাথে তাণ্ডব বা রকস্টারকে মেলানো যাবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রা চরিত্রের চেয়ে ‘রকস্টার’-এর মীরা চরিত্রটি মডার্ন ও আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা করা অন্যায় হবে। আর তিনটি ছবিই তো আমার সন্তানের মতো! প্রতিটির টেকনিক্যাল কাজ দুর্দান্ত। তাই আমি সব কটিকেই সমানভাবে এগিয়ে রাখব।”
অনেক দিন ধরে টিভি নাটক ও ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে সাবিলা নূরকে না দেখতে পেয়ে ভক্তদের মনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তারও সহজ উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাবিলা বলেন, “আমি মূলত টিভি নাটক থেকে অভিনয় শিখে উঠে এসেছি। নাটকই আমার শেকড়, একে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরপর ওটিটিতে ‘রক্তজবা’ বা বেশ কিছু কাজ করেছি, যা দর্শক লুফে নিয়েছেন। তারপর বড় পর্দায় অর্থাৎ সিনেমায় এসেছি। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা—এই তিনটি মাধ্যমের কাজের প্রস্তুতি কিন্তু তিন রকম। সিনেমার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কড়া ডায়েট, গ্রুমিং ও ক্যারেক্টার বিল্ডআপের পেছনে সময় দিতে হয়। তাই এক সাথে ওটিটি বা নাটকে শিডিউল দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে তার মানে এই নয় যে আমি চিরতরে নাটক বা ওটিটি ছেড়ে দিয়েছি। ভালো গল্প আর মনের মতো ক্যারেক্টার পেলে আমি সব মাধ্যমেই নিয়মিত অভিনয় করে যেতে চাই; কারণ আমি মূলত অভিনয়ের মানুষ, পর্দায় নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন রূপেই ভাঙতে চাই।”
জান্নাত সকালবেলা
|