জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ২ বিভাগে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি
বিনোদন প্রতিবেদক : ২০২৩ সালের ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অফিসিয়াল ফলাফল ও মনোনীতদের নাম নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের জেরে অবশেষে নিজেদের ভুল সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত এই সংশোধিত গেজেটে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ এবং ‘সেরা চিত্রনাট্যকার’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে।
আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড আপডেট ও জাতীয় পুরস্কার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের এই সংশোধনীর আদ্যোপান্ত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে জুরিবোর্ডের (Jury Board) মূল সুপারিশ যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হলে পুরো বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করে তাদের লিখিত মতামত সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে এই সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলো।
নতুন প্রজ্ঞাপনে সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ‘আজীবন সম্মাননা’ (Lifetime Achievement Award) বিভাগে। গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত ভুল প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অকালপ্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা ও নীতিমালা অনুযায়ী, এই আজীবন সম্মাননার জন্য শুধুমাত্র জীবিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিবেচনা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেহেতু পুরস্কার ঘোষণার আগেই এই দুই গুণী ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই মৃত ব্যক্তিদের ‘আজীবন’ সম্মাননা দেওয়া নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সংশোধিত নতুন প্রজ্ঞাপনে এই ভুল সংশোধন করে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে অসামান্য ও অবিস্মরণীয় অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে নির্মাতা তারেক মাসুদ ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর (Posthumous) বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আসল আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের কিংবদন্তি ও ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম এবং প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, জুরিবোর্ডের প্রাথমিক সুপারিশের তালিকাতেও মূলত অভিনেত্রী শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পূর্বের প্রজ্ঞাপনে রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছিল।
আজীবন সম্মাননার পাশাপাশি ‘সেরা চিত্রনাট্য’ (Best Screenplay) বিভাগেও বড় কারিগরি পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ নামক চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে গেজেট প্রকাশের পরপরই চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে তীব্র লিখিত অভিযোগ ওঠে যে, নিয়ামুল মুক্তা আদতে ওই ছবিটির মূল চিত্রনাট্য রচয়িতা বা লেখক নন।
এই গুরুতর জালিয়াতির বিষয়টি তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি তদন্ত ও পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। যার প্রেক্ষিতে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে নিয়ামুল মুক্তার নাম বাতিল করে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের প্রকৃত ও আসল চিত্রনাট্যকার হিসেবে তরুণ লেখক তাসনীমুল হাসানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চের একটি ক্যাটাগরিতে প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হলো। এই সংশোধিত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে পুরস্কার ঘোষণাকে ঘিরে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলতে থাকা যাবতীয় বিতর্ক ও অসন্তোষের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করছে দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।
জান্নাত সকালবেলা
|