জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই
বিনোদন প্রতিবেদক : দক্ষিণ ভারতের মালয়ালম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির (Malayalam Cinema) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, বহু কালজয়ী কৌতুক ও সিরিয়াস চরিত্রের রূপকার এবং ভারতের গৌরবময় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা সেলিম কুমার (Salim Kumar) আর নেই। লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল ব্যাধির সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন এই গুণী অভিনেতা। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল প্রস্থানে পুরো মালয়ালম চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সমগ্র ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার ও বিনোদন’ এবং ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্প, আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ও সেলিব্রেটি লাইফস্টাইল মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অভিনেতা সেলিম কুমারের মৃত্যুর কারণ ও তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পারিবারিক ও ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা সেলিম কুমার দীর্ঘদিন ধরেই লিভার সিরোসিস, কিডনির গুরুতর জটিলতা এবং ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বা সিওপিডিতে (COPD) ভুগছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা তীব্র হওয়ায় কয়েক বছর আগে তাঁর শরীরে সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপনও (Liver Transplant) করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবণতি ঘটলে মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে (গত ৫ জুন) তাঁকে কেরালার কোচির একটি খ্যাতনামা বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে লাইফ সাপোর্ট তথা ভেন্টিলেটরে রেখেছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল ডায়ালিসিসসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি তীব্র হৃদরোগে (Cardiac Arrest) আক্রান্ত হন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেলিম কুমারের বিনোদন দুনিয়ায় পথচলা শুরু হয়েছিল সত্তরের দশকের শেষভাগে সাধারণ থিয়েটার এবং মিমিক্রি (অন্যকে হুবহু নকল করার শিল্প) দিয়ে। কেরালা ও ভারতের বিভিন্ন মঞ্চে মিমিক্রি শিল্পী হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জনের পর, ১৯৯৭ সালে ‘ইশতামনু নুরু ভাট্টাম’ (Ishtammanu Nooru Vattam) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। অনন্য কমিক টাইমিং এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় প্রদর্শন করে তিনি খুব দ্রুতই মালয়ালম সিনেমার অন্যতম শীর্ষ ও অপরিহার্য অভিনেতা হয়ে ওঠেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনীত ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘থেনকাসিপট্টি নম’, ‘ওয়ান ম্যান শো’, ‘মীসা মাধবন’ এবং ‘কল্যাণরামন’-এর মতো অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমা দর্শকদের হৃদয়ে আজও চিরস্থায়ী জায়গা জুড়ে রয়েছে।
সিনেমাপ্রেমীরা তাঁকে মূলত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চিনলেও, সিরিয়াস ও ট্র্যাজিক চরিত্রেও তিনি যে কতটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তা প্রমাণ করেছেন বারবার। ‘আচানুরাংগাথা ভিদু’ (Achanurangatha Veedu) চলচ্চিত্রে এক অসহায় বাবার দুর্দান্ত ও জীবন্ত চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ‘কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিশ্বনন্দিত ‘আদামিন্তে মাকান আবু’ (Adaminte Makan Abu) সিনেমায় এক দরিদ্র মুসলিম হজযাত্রীর চরিত্রে অতিমানবিক ও হৃদয়স্পর্শী অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ (National Film Award for Best Actor) লাভ করেন। একই সিনেমার জন্য তিনি দ্বিতীয়বারের মতো কেরালা রাজ্য পুরস্কারও লুফে নেন।
সেলিম কুমারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার মামুট্টি, মোহনলাল, পৃথ্বীরাজ সুকুমারনসহ বহু তারকা এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আজ রবিবার কোচিতে তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে এবং বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
জান্নাত সকালবেলা
|