সাবেক রাঁধুনির গর্ভপাত, কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ণ
সাবেক রাঁধুনির গর্ভপাত, কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

বিনোদন প্রতিবেদক: মার্কিন রিয়েলিটি শো তারকা ও বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ব্যবসায়ী কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি। ওই নারীর অভিযোগ, নিজের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার কথা বারবার জানানো সত্ত্বেও কাইলি জেনারের ব্যবস্থাপনা দল তাঁকে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হিসেবে দীর্ঘ সময় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে বাধ্য করে। শুধু তা-ই নয়, এই কঠিন সময়ে তাঁকে প্রয়োজনীয় কোনো মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং কর্মস্থলে চরম বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। আর এই অমানবিক শারীরিক ও মানসিক চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত তাকে গর্ভপাতের মতো এক মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে এটিই কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে কর্মপরিবেশ নিয়ে ওঠা প্রথম কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নয়। এর আগেও তাঁর আরও দুই সাবেক গৃহপরিচারিকা বৈরী ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশের অভিযোগ তুলে এই মার্কিন ধনকুবেরের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

বিনোদনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি’-র হাতে আসা আদালতের আইনি নথি অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করা ওই নারী ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কাইলি জেনারের ব্যক্তিগত রাঁধুনি হিসেবে বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলায় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থার কারণে তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য আইন অনুযায়ী যে ধরনের কর্মস্থল-সুবিধা থাকার কথা তা দেওয়া হয়নি, এবং প্রতিনিয়ত মানসিক হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া যথাসময়ে ও সঠিক হারে পারিশ্রমিক বা ওভারটাইম না দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। মামলায় প্রধান বিবাদী কাইলি জেনারের পাশাপাশি তাঁর মূল প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং কয়েকজন প্রধান তত্ত্বাবধায়কের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নারী প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। কাইলি জেনারের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে তাঁর ভাই রব কার্ডাশিয়ানের জন্য রান্না করার দায়িত্বও ছিল তাঁর ওপর। একই সঙ্গে জেনার পরিবারের একাধিক বিলাসবহুল বাসভবন ও স্থানে যাতায়াত করে তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে হতো। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি কাইলির টিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর এই গর্ভধারণ অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্যগত সংকটের কারণে তিনি কাজের চাপ কিছুটা কমানোর লিখিত ও মৌখিক অনুরোধ জানালেও কাইলির ব্যবস্থাপনা দল তা পুরোপুরি উপেক্ষা করে। উল্টো আগের মতোই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ, ভারী দায়িত্ব এবং বিভিন্ন পার্টি ও বড় অনুষ্ঠানের খাবার ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব এককভাবে তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। মামলায় আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে এক তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে কোনো ধরনের সাহায্য ছাড়াই ভারী খাবারের সামগ্রী রাস্তা পার করে উঁচু জায়গায় বহন করার নির্দেশ দেন। এতে তিনি মাঝপথে মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে বাড়ির অন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় কোনোমতে পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা পান তিনি। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিজের গর্ভস্থ সন্তানের সুরক্ষার চিন্তায় তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পূর্ণ হওয়ার পর তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংসে কাইলি জেনারের সন্তানের জমকালো জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রান্নার কাজ করতে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা শারীরিকভাবে কষ্টকর কাজ করার কারণে তিনি চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তাঁর আকস্মিক রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি দ্রুত নিজেই হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে জানান, গর্ভস্থ তরতাজা শিশুর আর কোনো হৃৎস্পন্দন নেই।

এই মর্মান্তিক গর্ভপাতের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পরিবারের কাছাকাছি থাকার জন্য নিউইয়র্কের একটি শাখায় বদলি নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ওই নারী। তাঁর দাবি, অতীতে কাইলির টিম একাধিকবার তাঁকে নিউইয়র্কে কাজ করার প্রস্তাব দিলেও, এবার এই ক্রান্তিকালে সেই মানবিক আবেদনকে তারা উল্টো 'চাকরি ছাড়ার ইচ্ছা' হিসেবে ব্যাখ্যা করে। তিনি তখন স্পষ্ট করে টেক্সটে জানিয়ে দেন যে তিনি চাকরি ছাড়তে চান না। এরপরও কর্মস্থলে তাঁর প্রতি বৈষম্য ও হয়রানি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলায় একটি বিশেষ টেক্সট বার্তারও উল্লেখ রয়েছে, যেখানে এক তত্ত্বাবধায়ক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে লিখেছিলেন, ‘থামো, দয়া করে থামো। তুমি কাইলিকে কষ্ট দিচ্ছ। তুমি তাকে হতাশ করে তুলছ।’

এই টানাপোড়েনের পর ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ তাঁকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করা হয়। মামলায় ওই সাবেক রাঁধুনি কাইলি জেনারের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে আদালতের নথিতে কাইলি জেনার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সরাসরি মুখে বা শরীরে কোনো হয়রানি বা নির্যাতন করেছেন—এমন কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। অভিযোগে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কর্মস্থলের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়কদের এই অমানবিক আচরণ সম্পর্কে কাইলি জেনার পুরোপুরি অবগত ছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বা তাঁর কষ্ট কমাতে মালিক হিসেবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

মন্তব্য করুন