সায়নীর রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিককে দুষলেন মা
বিনোদন ডেস্ক : ওপার বাংলার তথা পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ওপার বাংলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কোলকাতা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী ঘটনাটিকে আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও, ঠিক কী কারণে একজন সফল ও প্রাণবন্ত তরুণী এমন চরম ও মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন— তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মেয়ের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর তিনদিন পর অবশেষে নীরবতা ভেঙে ওপার বাংলার গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে পৈশাচিক অত্যাচার করা হয়েছিল এবং সেই নির্মম মানসিক চাপের কারণেই এমন করুণ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘টলিউড গ্ল্যামার ডায়েরি’ বিভাগের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওপার বাংলার এই জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যমৃত্যু এবং পরিবারের গুরুতর অভিযোগের বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
গণমাধ্যমের সামনে সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী অশ্রুসজল চোখে মেয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার সায়নী ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত, চঞ্চল ও সবসময় হাসিখুশি স্বভাবের এক মায়াবী মানুষ। নিরীহ পশুপাখির প্রতি ওর ছিল এক গভীর ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। ও পড়াশোনায় খুব মেধাবী ছিল এবং এই তো কিছুদিন আগেই আইন (Law) বিষয়ে সফলভাবে স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছিল। ওর তো এমনটা করার কথা নয়।” ঘটনার আগের রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার দিন আগের রাতে সায়নী হঠাৎ করে তার প্রেমিকের বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে সে গভীর রাতে তীব্রভাবে কাঁদতে কাঁদতে অত্যন্ত বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে। পরে সায়নীর কাছের বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি যে, নিজের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সায়নী গত কয়েক মাস ধরে চরম মানসিক চাপের (Mental Depression) মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।”
পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, সায়নীর প্রেমিক তাকে নানাভাবে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা (Harassment) করতেন এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরণের নোংরা টানাপোড়েন চলছিল। তবে সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সায়নী নিজের ভেতরের এই সীমাহীন কষ্টের কথা কখনও পরিবার বা মায়ের কাছে প্রকাশ করেননি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সায়নী চক্রবর্তী মূলত সাধারণ মানুষের কাছে ‘সুন্দরী’র দিদি নামে ব্যপকভাবে পরিচিত ও সমাদৃত ছিলেন। গ্রামীণ পরিবেশে তাঁর নিজের অতি আদরের পোষা গরু ‘সুন্দরী’কে কেন্দ্র করে তৈরি করা পারিবারিক ভ্লগ ও ছোট ছোট ভিডিওগুলো ওপার বাংলা ছাড়িয়ে এপার বাংলার দর্শকদের মাঝেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। অতি সাধারণ ও সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং বোবা প্রাণীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম মমতা ও ভালোবাসার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সায়নী ফেসবুক ও ইউটিউবে লাখ লাখ ফলোয়ার্স অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শোকার্ত পরিবারের দাবি, সায়নীর সঙ্গে অভিযুক্ত ওই যুবকের প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং দুই পরিবারের সকল সদস্যই এই সম্পর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে অবগত ছিলেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথাবার্তা চলার মাঝেই পরবর্তীতে সম্পর্ক নিয়ে প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নানা জটিলতা ও অনৈতিক দাবি তৈরি করা হয় বলে সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী কঠোর অভিযোগ এনেছেন।
বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় চলমান থাকায় এবং ময়নাতদন্তের (Autopsy) চূড়ান্ত রিপোর্ট হস্তগত না হওয়ায় ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সায়নীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও চ্যাটিং হিস্ট্রি নিবিড়ভাবে যাচাই করছে। সায়নীর পরিবার ও ভক্তদের একমাত্র প্রত্যাশা— নিরপেক্ষ আইনি তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুত এই মৃত্যুর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত সত্য সবার সামনে উন্মোচিত হবে।
জান্নাত সকালবেলা
|