ডাক্তারি ডিগ্রি থাকার পরও শোবিজে সফল যে তারকারা
বিনোদন ডেস্ক: চিকিৎসক হওয়া বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। দিন-রাত এক করে মেডিকেল কলেজের মোটা মোটা বইয়ের পাতা ওল্টানো এবং মানবসেবার ব্রত নেওয়া—এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সহজ কথা নয়। তবে ভারতে গত ১ জুলাই ‘জাতীয় चिकित्सक দিবস’ (National Doctors' Day) উদযাপনের আবহে এমন কয়েকজন সফল তারকার গল্প সামনে এসেছে, যারা চিকিৎসাবিদ্যার এই কঠিনতম পাঠ চুকিয়েও পরবর্তীতে স্টেথোস্কোপ তুলে রেখে রূপালি পর্দা কিংবা সুরের ভুবনকেই নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার লাইসেন্স ও যোগ্যতা থাকার পরও যে তারকারা আজ অভিনয়, গান বা মডেলিংয়ে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাদের কয়েকজনকে নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন:
সাই পল্লবী (Sai Pallavi)
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শীর্ষ ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী সাই পল্লবী। গ্ল্যামারহীন লুকে পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী কিন্তু একজন সত্যিকারের চিকিৎসক। তিনি জর্জিয়ার ‘তিবলিসি স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি’ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করেন। দেশে ফিরে ভারতে প্র্যাকটিস করার জন্য মেডিকেল লাইসেন্স পরীক্ষাতেও (FMGE) উত্তীর্ণ হন। তবে ভাগ্যের টানে চিকিৎসা পেশায় না গিয়ে তিনি অভিনয়কেই স্থায়ী পেশা বানান। 'প্রেমাম', 'ফিদা', 'লাভ স্টোরি', 'শ্যাম সিংহা রায়' ও 'গার্গী'র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রীকে খুব শিগগিরই নিতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ' সিনেমায় সীতার চরিত্রে দেখা যাবে।
মানুষী ছিল্লার (Manushi Chhillar)
২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মুকুট জয়ের আগে মানুষী ছিল্লার হরিয়ানার একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট) হওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল তাঁর। তবে বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জেতার পর গ্ল্যামার জগৎ তাকে হাতছানি দেয়। অক্ষয় কুমারের বিপরীতে 'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তীতে 'দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি', 'বড়ে মিঞা ছোট মিঞা' ও 'অপারেশন ভ্যালেন্টাইন'-এ অভিনয় করে তিনি নজর কেড়েছেন।
শ্রীলীলা (Sreeleela)
বর্তমান দক্ষিণ ভারতীয় বা তেলুগু সিনেমার সবচেয়ে ব্যস্ত ও জনপ্রিয় তরুণ মুখদের একজন শ্রীলীলা। একদিকে একের পর এক বাণিজ্যিক সিনেমায় নাচ ও অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মাত করছেন, অন্যদিকে নিজের এমবিবিএস ডিগ্রিও সম্পন্ন করেছেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই কন্নড় সিনেমা 'কিস' দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা শ্রীলীলা মহেশ বাবুর সাথে 'গুন্টুর কারাম', 'ধামাকা' এবং 'ভগবন্ত কেশরী' সিনেমা দিয়ে বক্স অফিস মাতিয়েছেন।
সিধু (সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়)
দুই বাংলার বাংলা রক মিউজিকের ইতিহাসে ‘ক্যাকটাস’ ব্যান্ডের নাম শোনেননি এমন শ্রোতা মেলা ভার। এই ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও মূল কণ্ঠশিল্পী সিধু (সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়) কলকাতার স্বনামধন্য আর জি কর বা ‘ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ’ থেকে ডাক্তারি পাস করেন। সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে তিনি কিছুদিন ফুল-টাইম চিকিৎসক হিসেবেও সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু গানের প্রতি অদম্য ভালোবাসার কারণে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পুরোপুরি গানকেই বেছে নেন। তাঁর কণ্ঠে 'হলুদ পাখি', 'রাজা যায় রাজা আসে' গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়।
পলাশ সেন (Palash Sen)
ভারতের জনপ্রিয় ইন্ডি-রক ব্যান্ড ‘ইউফোরিয়া’ (Euphoria)-র ফ্রন্টম্যান পলাশ সেন একজন পেশাদার এমবিবিএস চিকিৎসক। দিল্লির একটি হাসপাতালে পুরোদস্তুর ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সমানতালে গান চালিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, এখনও তাঁর একটি নিজস্ব সক্রিয় ক্লিনিক রয়েছে। 'ম্যায়নে দিল সে কহা', 'ধুম পিচক ধুম' সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই গায়ক কয়েকটি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজেও দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন।
মিয়াং চ্যাং (Meiyang Chang)
জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ থেকে দেশজোড়া পরিচিতি পাওয়া মিয়াং চ্যাং বেঙ্গালুরুর একটি ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্তচিকিৎসা (BDS) বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। শোবিজে পুরোপুরি থিতু হওয়ার আগে তিনি বেশ কিছুদিন দন্তচিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট হিসেবে কাজও করেছেন। পরবর্তীতে গায়ক, উপস্থাপক ও অভিনেতা হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। শহীদ কাপুরের সঙ্গে ‘বদমাশ কোম্পানি’, 'মডার্ন লাভ মুম্বই', 'উলাঝ' এবং টলিউডের বাংলা সিনেমা 'তারকাটা'-তে তাঁর অভিনয় দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অদিতি গোবিত্রিকর (Aditi Govitrikar)
পেশায় একজন নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসক অদিতি গোবিত্রিকর। ডাক্তারি পড়া শেষ করার পরপরই তিনি মডেলিং দুনিয়ায় পা রাখেন এবং ২০০১ সালে ভারতের পক্ষে প্রথম ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব জেতেন। এরপর বলিউডের হিন্দি সিনেমা 'সোচ', শাহরুখ খানের 'পহেলি', কমেডি ঘরানার 'দে দনা দন', 'ভেজা ফ্রাই ২' সহ একাধিক মারাঠি ও তেলুগু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অদিতির মতে, মেডিকেল লাইফের কঠোর পড়াশোনা তাকে জীবনে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়েছে।
মোহন আগাশে (Mohan Agashe)
মারাঠি ও হিন্দি সিনেমার বর্ষীয়ান এবং কিংবদন্তি অভিনেতা মোহন আগাশে একাধারে একজন প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট)। তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় এমবিবিএস ও সাইকিয়াট্রিতে এমডি (MD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। 'রং দে বাসন্তী', 'আক্রোশ', 'ত্রিমূর্তি'র মতো অসংখ্য কালজয়ী হিন্দি সিনেমায় খলনায়ক ও চরিত্রাভিনেতা হিসেবে পর্দা কাঁপানোর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
|