অভিনয়ের জড়তা কাটাতে মুক্ত মনে গালিগালাজের অনুশীলন করেছিলেন দীপিকা!
অনলাইন ডেস্ক: বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন মানেই পর্দায় মার্জিত রূপ, স্নিগ্ধ চোখ ও অনন্য ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। তবে ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় লীলা বানসালির সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রামলীলা’-র শুটিং শুরুর আগে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের এই স্নিগ্ধ ও শান্ত ভাব পুরোপুরি বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাঁকে। ক্যামেরার সামনে গুজরাটি নারী ‘লীলা’ চরিত্রের সব ধরনের আড়ষ্টতা ও জড়তা কাটাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মন খুলে গালাগাল দেওয়ার অনুশীলন পর্যন্ত করেছিলেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীপিকার অভিনয় জীবনের এই চমকপ্রদ ও অজানা গল্পটি সামনে এনেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী ও অভিনয় প্রশিক্ষক জয়তী ভাটিয়া।
সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘রামলীলা’ চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকার জন্য দীপিকাকে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখানো ও তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জয়তী ভাটিয়াকে। লক্ষ্য ছিল একটাই—দীপিকার লাজুক, আড়ষ্ট ও অতি-ভদ্র খোলসটি ভেঙে ফেলা, যাতে ক্যামেরার সামনে চরিত্রটির সব ধরনের জেদ, আবেগ ও আগ্রাসন ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়।
জয়তী জানান, বানসালি তাঁকে দীপিকার জন্য সাত দিনের একটি বিশেষ অভিনয় ওয়ার্কশপের পরিকল্পনা করতে বলেছিলেন। সেই প্রশিক্ষণেরই একটি অংশ হিসেবে দীপিকাকে মনের সব ভয় ও সংকোচ ভুলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওয়ার্কশপের সেই অভাবনীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জয়তী বলেন, বানসালির অফিসের বারান্দায় দীপিকাকে একাই দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিচে কেউ তাকাচ্ছে কি না তা না ভেবে খোলা গলায় চিৎকার করে গালমন্দ করার নির্দেশ পান তিনি।
জয়তীর ভাষ্যমতে, “দরজা খুলে দীপিকা যখন গালি দিতে শুরু করল, আমি যেখানে গিয়ে থামতে বলেছিলাম, ও ঠিক সেখানেও থামেনি। এমন সব ভাষার গালি দিল, যা আমি জীবনে কোনোদিন শুনিনি! মনের ভেতরে জমিয়ে রাখা সব আড়ষ্টতা যেন এক নিমিষেই বের হয়ে এলো। আমি স্তম্ভিত ও মুগ্ধ হয়ে শুধু তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম।”
অভিনয় প্রশিক্ষক জয়তী ভাটিয়া আরও জানান, সেই অনুশীলনের সময়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ‘ককটেল’ সিনেমার সাফল্যের পর দীপিকা পাড়ুকোন একজন আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। ফলে দীপিকার চমৎকার অনুশীলনের কারণে সাত দিনের ওয়ার্কশপ মাত্র চার দিনেই শেষ করে তাঁকে শুটিং সেটে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন জয়তী।
|