মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন ও গুলশানে ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করল এমজিআই

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন ও গুলশানে ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করল এমজিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক:পরিবর্তিত ও দ্রুত বর্ধনশীল নগরজীবনের কন্ডিশন বিবেচনা করে বাংলাদেশের খুচরা বা রিটেইল ব্যবসায় এক বৈপ্লবিক মেথডলজি নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। ব্যস্ত মানুষের প্রতিদিনের যাত্রাপথেই মানসম্মত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোরেলের (MRT Line-6) ৯টি প্রধান স্টেশন এবং গুলশানের অভিজাত এলাকায় একযোগে ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ এর আউটলেটগুলো বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়েছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের ঘরে ঘরে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত এমজিআই-এর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ দেশের চেইন সুপারশপ খাতের আধুনিকায়নে এক নতুন সমীকরণ যোগ করল।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘করপোরেট লাইফস্টাইল, রিটেইল বিজনেস ও এফএমসিজি সেক্টর খতিয়ান’ এবং ‘এফএমসিজি মার্কেট অ্যানালাইসিস, রিটেইল চেইন মনিটরিং ও করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ফ্রেশ সুপার মার্টের বাণিজ্যিক রূপরেখা ও বাজার প্রবৃদ্ধির খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

এমজিআই-এর অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, আজ সকালে গুলশান-১ এর হাউস নম্বর-৪৮, রোড নম্বর-৩৪ এ অবস্থিত আধুনিক ও সুসজ্জিত ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ এর ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটটির ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন এমজিআই-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।

এই মেগা উদ্বোধন কন্ডিশনে এমজিআই বোর্ডের শীর্ষ ডিরেক্টরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা এবং ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা। এছাড়া অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তায়েফ বিন ইউসুফ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হেড অব এক্সপোর্ট সামিরা রহমান, ওয়াশিকুর রহমান এবং রাশিক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের আইটি ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের মেম্বাররা।

গুলশান আউটলেটের পাশাপাশি ফ্রেশ সুপার মার্টের নতুন চেইন শাখাগুলো আজ থেকে একযোগে চালু হয়েছে মেট্রোরেলের মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা নর্থ সি গেট এবং উত্তরা নর্থ ডি গেট স্টেশনে। এর আগে সফল মেথডলজি নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) তেজগাঁও, মেঘনাঘাট এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে (MIEZ) তিনটি আউটলেট সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল।

উদ্বোধনী ভাষণে এমজিআই চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, “বাংলাদেশের নগরজীবন অত্যন্ত দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ব্যস্ত মানুষের কেনাকাটার কন্ডিশন ও সময় কমে আসছে। টোকিও, সিউল বা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত শহরগুলোতে ট্রেন স্টেশনের ভেতরে এই ধরণের ছোট পরিসরের এক্সপ্রেস আউটলেট অত্যন্ত জনপ্রিয় মেথড। বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী বহন করছে, যা কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এই লাখো যাত্রীর প্রতিদিনের চলার পথেই আমরা মানসম্মত পণ্য সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছি, যা রিটেইল খাতে নতুন কর্মসংস্থানের আইনি সুযোগও তৈরি করবে।”

দেশের খুচরা বাজারের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার খতিয়ান টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে আধুনিক সুপারশপ বা ব্র্যান্ডভিত্তিক রিটেইল শপের উপস্থিতি এখনো মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশের কম। অথচ আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি (HSBC) গ্লোবাল রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে। এই বিশাল গ্যাপ পূরণের লক্ষে প্রাথমিকভাবে সারা দেশে আরও ৫০টি আধুনিক আউটলেট চালুর দীর্ঘমেয়াদী আইনি গেমপ্ল্যান হাতে নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ।

প্রতিটি ফ্রেশ সুপার মার্টে দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য (Frozen Food), নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কসমেটিকস এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাওয়া যাবে। এছাড়া ট্রানজিট যাত্রীদের রিফ্রেশমেন্টের জন্য ইন-স্টোর ক্যাফেতে লাইভ কফি ও স্ন্যাকস উপভোগের চমত্কার কন্ডিশন রাখা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা ৫৭টি শিল্প ইউনিটের এই মেগা গ্রুপটি বর্তমানে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে দেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধিতে এক নিরেট স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন