স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

রাজধানীর পল্টনে একটি বেসরকারি স্কুলে এক খুদে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দু’জন শিক্ষক আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অফিস রুমে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন।

অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলটি বন্ধ করার দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পল্টনের শারমিন একাডেমির বলে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করেছেন আইনজীবী সালেহ উদ্দীন। সিসি ক্যামেরার সময় অনুযায়ী ভিডিওটি ১৮ জানুয়ারির।

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী শিক্ষক শিশুকে হাত ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে যান এবং তাকে ধমক দেন। এরপর এক পুরুষ শিক্ষক চেয়ার থেকে উঠে শিশুর মুখ, মাথা ও গলা চেপে ধরেন। নারী শিক্ষক ওই সময়ে শিশুর হাত ধরে রাখেন। পরপর কয়েক দফা শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

ভিডিও ভাইরাল হলে অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তারা বলেছেন, স্কুল হলো “সেকেন্ড হোম” এবং শিক্ষকরা বাবা-মা সমতুল্য। স্কুলে শিশুরা নিরাপদ নয়, তাই এটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সচিবালয় থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরত্বে পল্টনের মতো জায়গায় স্কুলে এই ধরনের অমানবিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি শিক্ষাব্যবস্থাপনায় দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চশমা পরা, ঘিয়ে রঙের প্যান্ট ও ছাই রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি শিশুকে মারধর করছেন। পাশে গোলাপি শাড়ি পরা নারী শিশুর হাত ধরে রাখছেন।

পল্টন থানা পুলিশ জানায়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। এটি নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের স্কুলে ঘটেছে। নির্যাতনে জড়িতদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা থানায় নোটিশ পেয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন