যাদের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন
ইসলাম ও জীবন প্রতিবেদক:মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অসংখ্য আমল ও উপায় রয়েছে। তবে ইসলামে এমন কিছু বিশেষ ও চমৎকার আমল রয়েছে, যা পালন করলে শুধু দুনিয়ার মানুষই নয়, বরং আল্লাহর অন্যতম নূরানী সৃষ্টি আসমানের ফেরেশতারাও সেই ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে থাকেন। ফেরেশতাদের দোয়া মানেই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, রহমত এবং ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভের এক অনন্য সুযোগ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩)।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টা ২৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ইসলামী আইন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা’ এবং ‘পবিত্র কুরআন-হাদিস গবেষণা, ফিকহ চর্চা ও ফতোয়া উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সেই সৌভাগ্যবান সাত শ্রেণির মানুষ এবং তাদের আমল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
যে ব্যক্তি রাতে ওযু অবস্থায় পবিত্র হয়ে ঘুমাতে যান, তাঁর সাথে একজন ফেরেশতা রাতভর অবস্থান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় রাত কাটায়, তার সাথে একজন ফেরেশতা অবস্থান করেন। সে যখনই জাগ্রত হয়, তখনই ফেরেশতা বলেন—হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।” (সহিহ ইবনে হিব্বান)।
যে ব্যক্তি এক নামাজ শেষ করে অন্য নামাজের জন্য কিংবা জামাত শুরুর আগে মসজিদে ওযু অবস্থায় অপেক্ষা করেন, ফেরেশতারা তাঁর জন্য অবিরাম দোয়া করতে থাকেন। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, ফেরেশতারা বলতে থাকেন, “হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন।” যতক্ষণ সে ওযু অবস্থায় মসজিদে থাকে, এই দোয়া চলতেই থাকে।
জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত অনেক বেশি। মুসনাদে আহমাদ শরিফের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা প্রথম কাতারে অবস্থানকারীদের জন্য বিশেষ রহমতের দোয়া করেন।”
যে ব্যক্তি মন থেকে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর কল্যাণের জন্য দোয়া করেন। হাদিস শরিফে (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব) বর্ণিত হয়েছে, “যে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করে, ফেরেশতারাও তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন।”
ইসলামে অসুস্থ কোনো মুসলমানকে দেখতে যাওয়া বা তাঁর সেবা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি ইবাদত। সহিহ ইবনে হিব্বানের হাদিস অনুযায়ী, “কোনো মুসলমান যদি সকালে বা বিকেলে অন্য কোনো অসুস্থ মুসলমান ভাইকে দেখতে যায়, তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর দরবারে তার জন্য মাগফিরাত ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন।”
যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে বা গোপনে তাঁর কল্যাণ ও সাফল্যের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তখন তাঁর পাশে থাকা একজন নিয়োজিত ফেরেশতা আমিন বলেন এবং বলেন, “আর তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক।” (সহিহ মুসলিম)।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যারা নিয়মিত দান-সদকা করেন, ফেরেশতারা প্রতিদিন তাঁদের জন্য বরকতের দোয়া করেন। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, প্রতিদিন ভোরে দুজন ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাঁদের একজন দানকারীর জন্য দোয়া করে বলেন, “হে আল্লাহ! দানকারীকে এর উত্তম প্রতিদান ও বরকত দান করুন।” আর অন্যজন কৃপণের জন্য ধ্বংসের দোয়া করেন।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও ফকিহদের মতে, আসমানের ফেরেশতাদের এই দোয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আরশ থেকে নেমে আসা রহমতের চাদর। ওযুসহ ঘুমানো, মসজিদে অপেক্ষা করা, প্রথম কাতারে দাঁড়ানো বা দুরুদ পাঠের মতো আমলগুলো দৈনন্দিন জীবনে চর্চা করা খুব বেশি কঠিন নয়, কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রতিদান অত্যন্ত মহামূল্যবান। তাই একজন খাঁটি মুমিনের দায়িত্ব হলো নিজের প্রতিদিনের রুটিনে এই আমলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে আসমানের ফেরেশতাদের দোয়ার বরকতে জীবন সুন্দর ও কলুষমুক্ত হয়ে ওঠে।
জান্নাত সকালবেলা
|