হিল্লা বিয়ে আল্লাহর জমিনে নিকৃষ্টতম কাজ: শায়খ আহমাদুল্লাহ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ণ
হিল্লা বিয়ে আল্লাহর জমিনে নিকৃষ্টতম কাজ: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্মীয় ডেস্ক: আমাদের সমাজে ‘হিল্লা বিয়ে’ নামে যে চুক্তির বিয়ে বা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ প্রচলিত রয়েছে, তা আল্লাহর জমিনের নিকৃষ্টতম ও নোংরা কাজগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে পরিষ্কার এসেছে—যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে এবং যার জন্য হিল্লা বিয়ে করানো হয়, তাদের উভয়ের প্রতিই আল্লাহর গজব ও লানত বর্ষিত হয়।

কয়েক বছর আগে এক ওয়াজ মাহফিলে হিল্লা বিয়েকে জায়েজ বানানোর অপচেষ্টা ও ইসলামের বিধান নিয়ে দর্শকের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আমাদের দেশে অসচেতনতাবশত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তিন তালাক হয়ে গেলে কিছু সমাজপতি, মাতবর কিংবা নামধারী হুজুররা মিলে এক অভিনব অপকৌশল বেছে নেন। তারা লোক ভাড়া করে এনে ওই নারীর সাথে একটি নামমাত্র বা চুক্তির বিয়ে পড়িয়ে দেন। শর্ত থাকে যে, ‘আজকে তুমি বিয়ে করো, আর কাল বা দুইদিন পর তালাক দিয়ে দিও, যাতে পূর্বের স্বামী আবার তাকে বিয়ে করতে পারে।’ আল্লাহর পবিত্র বিধানকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই শর্টকাট ও নোংরা রাস্তা খোঁজা হয়। ইসলাম এ ধরনের পাতানো ও সাজানো খেলাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।”

ইসলামি শরিয়তের প্রকৃত বিধান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে চূড়ান্তভাবে তিনবার তালাক দেয়, তবে সেই স্ত্রী স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই নারী পরবর্তীতে নিজের ইচ্ছায় অন্য কোনো পুরুষকে স্বাভাবিক নিয়মে বিয়ে করে যদি নতুন সংসার শুরু করেন এবং সেই নতুন স্বামীও যদি কখনো বনিবনা না হওয়ায় স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দেন কিংবা মারা যান, তবেই কেবল ইদ্দত পালন শেষে পূর্বের স্বামী চাইলে তাকে নতুন করে মোহর দিয়ে বিয়ে করতে পারবেন। এর বাইরে জোরপূর্বক বা চুক্তির মাধ্যমে কাউকে বিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।

কোনো দম্পতির তিন তালাক হয়ে গেলে করণীয় প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তালাক যদি চূড়ান্ত হয়েই যায়, তবে সেই পুরুষ অন্য কোথাও বিয়ে করবে এবং ওই নারীকেও অন্য কোনো ভালো পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে বাকি জীবন সংসার করতে পারে।

বাঙালিদের ক্ষোভ ও আবেগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা যেমন মিটারের একেবারে ওপরে থাকে, তেমনি রাগ ও শত্রুতাও সবসময় মিটারের ওপরে থাকে। যখন রাগ ওঠে, তখন রাগের মাথায় এক তালাক না দিয়ে মানুষ একসাথে তিন হাজার তালাক দিয়ে বসে। স্বামী-স্ত্রী বিচ্ছেদ চাইতেই পারেন, তবে শরিয়তের নিয়ম হলো প্রথমে একটি তালাক দেবে। এরপর ভবিষ্যতে আবার সমস্যা হলে দ্বিতীয় তালাক দেবে। শেষ তালাক বা তিন নম্বর তালাক দেওয়ার আগে মানুষকে দশবার চিন্তা করতে হবে যে—এই তালাকটি দিলে আমি আর কোনোদিন এই স্ত্রীর মুখ দেখতে পারব না। এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই কেবল শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন