নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা ও আপনজনদের সঙ্গে সুখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার উৎসব। তবে সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে ঈদ মানে শুধুই নতুন পোশাকের স্বপ্ন, একটু ভালো খাবারের অপেক্ষা আর পরম যত্নে কেউ বুকে টেনে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সেইসব অবহেলিত শিশুদের মুখে ঈদের অনাবিল হাসি ফোটাতে রাজধানীর মুগদায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবিক আয়োজন করেছে সামাজিক সংগঠন ‘সাউথ এশিয়া ইউনাইটেড অর্গানাইজেশন’ এবং ‘সিড ফাউন্ডেশন’।
আজ সকালে রাজধানীর মুগদাস্থ জে এস গ্রামার হাইস্কুল প্রাঙ্গণে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘ঈদ উপহার’ বিতরণ করা হয়। কাঙ্ক্ষিত উপহার হাতে পেয়ে শিশুদের বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন সাউথ এশিয়া ইউনাইটেড অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান রাকিব আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন জে এস গ্রামার হাইস্কুলের চেয়ারম্যান শামসুজ্জাহান বাদল। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জে এস গ্রামার হাইস্কুলের শিক্ষিকা প্রিয়াংকা আক্তার সুমি, সিড ফাউন্ডেশনের শিক্ষিকা ডলি আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি শিশুরই সমানভাবে এবং সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে। ঈদের প্রকৃত আনন্দ শুধু বিত্তবানদের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের এই সুবিধাবঞ্চিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝেও সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
প্রধান অতিথি রাকিব আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সমাজের প্রতিটি শিশুই ভালোবাসা ও মর্যাদা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। আমরা চাই, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও যেন ঈদের অনাবিল আনন্দ সমভাবে অনুভব করতে পারে এবং নিজেদের এই সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গর্বিত বোধ করে। মানবতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো। সমাজের সামর্থ্যবান সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে আসেন, তাহলে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
প্রধান আলোচক শামসুজ্জাহান বাদল বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সামাজিক কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা ও প্রাপ্তি। শিশুদের এই নিষ্পাপ আনন্দই আমাদের আগামীর পথ চলার মূল অনুপ্রেরণা।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন উপহার হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে অনাবিল তৃপ্তি ও আনন্দ। কেউ নতুন রঙিন পোশাক পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে হাসছিল, কেউ আবার আনন্দের আতিশয্যে অতিথিদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, আবেগ ও মানবিকতার এক অনন্য ও উজ্জ্বল বার্তা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ শুধু শিশুদের হাতে কিছু উপহারই তুলে দেয় না, বরং তাদের কোমল মনে নতুন স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও বেঁচে থাকার এক পজিটিভ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
এআইএল/সকালবেলা