ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ সেরাজুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ: আধুনিকতার প্রবল জোয়ার আর প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়ামের দাপটে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারটিয়া পালপাড়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। একসময় এই অঞ্চলের কয়েকশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও খেলনা তৈরির কাজ। তবে বর্তমানে হাতেগোনা মাত্র ৮-১০টি পরিবার এই আদি পেশা আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, বাজারে এখন মাটির জিনিসের চাহিদা নেই বললেই চলে। মেলামাইন ও প্লাস্টিকের সহজলভ্যতায় মানুষ মাটির পাত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। শিল্পী লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল আক্ষেপ করে বলেন, "আগে এক গাড়ি মাটি ১২০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৪৫০০ টাকা। খড়ির দামও বেড়েছে চার-পাঁচ গুণ। কিন্তু আমাদের তৈরি মালের দাম বাড়েনি। লাভ তো দূরে থাক, এখন খরচ তোলাই দায়।"
সরেজমিনে দেখা যায়, সারটিয়া পালপাড়ার অধিকাংশ শিল্পীই এখন দইয়ের খুটি বা ছোটখাটো ফরমায়েশি কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। প্রবীণ শিল্পী বানু পাল ও বিউটি পালের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ঋণ সুবিধা না পেলে অচিরেই এই প্রাচীন লোকজ শিল্পটি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। লোকজ সংস্কৃতির ধারক এই মৃৎশিল্পকে বাঁচাতে বিশেষ বাজারজাতকরণ সুবিধা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ