শ্রমিক অসন্তোষ: ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশ: রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
শ্রমিক অসন্তোষ: ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সতর্ক অবস্থানে থেকে শিল্পাঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর অংশ হিসেবে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নাশকতা মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যদের এই বিশেষ মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর; নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজিবি সদর দপ্তরের সুনির্দিষ্ট মনিটরিং সেল থেকে অত্যন্ত আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বিজিবির সব কার্যক্রম এবং সরাসরি ভিডিও চিত্র সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে এই নজরদারি ও মোতায়েন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

 উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলন চলে আসছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। আজ রোববার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ছেড়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার শ্রমিকনেতাদের এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। উভয়পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পরই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নবগঠিত এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন— মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন।

এই বোর্ড পোশাকশিল্পের সব পদের শ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করবে। পরবর্তীতে বোর্ডের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত ও তার সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে সরকার।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরের বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাকশিল্পে নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান থাকলেও চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত শ্রম আইনে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই আইনি বিধান অনুযায়ীই চলতি নভেম্বরে নতুন এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো।