হরমুজ প্রণালি যৌথ পরিচালনার ওমানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি যৌথ পরিচালনার ওমানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
(ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব জ্বালানি চলাচলের মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের দেওয়া দ্বিপক্ষীয় প্রস্তাব সরাসরি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

একই দিনে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা এবং জবাবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওমানের পক্ষ থেকে ৫০-৫০ ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করার যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা তেহরানের জাতীয় ও সামরিক স্বার্থের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরানের স্পষ্ট অবস্থান হলো—তারা এই কৌশলগত প্রণালির প্রবেশমুখে শতভাগ বা পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং বহির্গমনপথে আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, জলপথটিতে তাদের পূর্ণ সামরিক আধিপত্য বিদ্যমান রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসনের যেকোনো ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’-এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ অমান্য করে ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করায় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার ও জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে।

অন্যদিকে, গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৩ দিনের বোমাবর্ষণ স্থগিতের ঘোষণার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন পুনরায় তাদের বড় সামরিক অভিযানে নামল। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার বদলা নিতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকের সাতটি প্রদেশে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ)-এর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় পিএমএফ-এর অন্তত ২০ জন সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করায় পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতার তাতক্ষণিক বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির বাজারে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফেই ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পুনরায় ৮৭ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন